মূল কনটেন্টে যান
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬

শেকড়ের টানে জকিগঞ্জে যোগ দিলেন ডা. জয়নাল আবেদীন

কুশিয়ারার তীর থেকে জন্মভূমির মানুষের সেবায়, ডা. জয়নাল আবেদীনকে ঘিরে জকিগঞ্জবাসীর ব্যাপক প্রত্যাশা


নিজস্ব প্রতিবেদক
শেকড়ের টানে জকিগঞ্জে যোগ দিলেন ডা. জয়নাল আবেদীন
লেখক ও চিকিৎসক ডা. জয়নাল আবেদীন

কুশিয়ারা নদীর তীরের জনপদ জকিগঞ্জ। এখানেই জন্ম, এখানেই বেড়ে ওঠা। জীবনের পথ ধরে পেশাগত কারণে রাজধানী ঢাকায় থাকতে হলেও এবার নিজের শেকড়ের কাছে ফিরেছেন লেখক ও চিকিৎসক ডা. জয়নাল আবেদীন। ৪৫তম বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে নিজ উপজেলা জকিগঞ্জে চিকিৎসক হিসেবে যোগ দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মস্থলে যোগদান করেন এই চিকিৎসক। তাঁর এই যোগদানের খবরে স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহ দেখা দিয়েছে। যাঁর শৈশব-কৈশোর কেটেছে জকিগঞ্জের মাটিতে, সেই মানুষটিই এবার চিকিৎসক হিসেবে দাঁড়াবেন জন্মভূমির মানুষের পাশে। বিষয়টিকে অনেকেই দেখছেন শেকড়ের প্রতি ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে।

ডা. জয়নাল আবেদীনের বাড়ি জকিগঞ্জ উপজেলার খলাছড়া ইউনিয়নের ঈদগাহবাজার কাপনা (ধলিগাও) গ্রামে। তিনি মরহুম রইস আলীর তৃতীয় সন্তান। চিকিৎসাবিদ্যায় স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি সাহিত্যচর্চায়ও গড়ে তুলেছেন নিজস্ব পরিচিতি। চিকিৎসক পরিচয়ের বাইরে তিনি একজন লেখক, যাঁর লেখায় উঠে আসে মানুষ, মানুষের মন ও জীবনের নানা গল্প।

মানুষের সঙ্গে মিশে তাঁদের জীবনকে কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতাই তাঁর লেখালেখির অন্যতম প্রেরণা। নিজের ভাষায়, বিত্তগত সাফল্যের চেয়ে মানুষ ও মানুষের মন বুঝে নেওয়ার শক্তিই তাঁকে বেশি সমৃদ্ধ করেছে। নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মিশে জমে থাকা গল্পগুলো একসময় তাঁকে টেনে নেয় সাহিত্যের জগতে।

২০১৮ সালের বইমেলায় প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘শিকল’। এরপর প্রকাশিত হয় ‘বিভ্রম’ ও ‘ত্রিকোণমিতি’ নামে আরও দুটি উপন্যাস। গল্পগ্রন্থও প্রকাশিত হয়েছে তাঁর। তাঁর প্রকাশিত একক গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘শিকল’, ‘বিভ্রম’, ‘ত্রিকোণমিতি’ ও ‘বাড়ির নাম জলতরঙ্গ’।

লেখালেখি থেকে পাঁচ বছরের বিরতির পর ‘বাড়ির নাম জলতরঙ্গ’ উপন্যাস দিয়ে আবারও সাহিত্যজগতে ফিরেছেন তিনি। বর্তমানে নিয়মিত টেলিভিশন নাটক লেখার পাশাপাশি অনুলিখন ও কপিরাইটিংয়ের কাজ করছেন। জকিগঞ্জের স্বপ্নসিঁড়ি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদের সদস্য হিসেবেও কাজ করেছেন এই লেখক।

লেখালেখির প্রতি তাঁর ভালোবাসা কতটা গভীর, তা বোঝাতে নিজের পছন্দের ভ্রমণস্থল হিসেবে লেখার টেবিলের কথা বলেছেন তিনি। নিজের ভালো কোনো লেখাকেই পছন্দের খাবারের সঙ্গে তুলনা করেছেন ডা. জয়নাল আবেদীন।

চিকিৎসক হিসেবে নিজ উপজেলায় যোগদানের মধ্য দিয়ে এবার তাঁর জীবনে যুক্ত হলো জন্মভূমির মানুষের সেবা করার নতুন অধ্যায়। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পেশাগত দক্ষতা, মানবিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তিনি জকিগঞ্জের মানুষের আস্থা অর্জন করবেন। একই সঙ্গে সাহিত্যচর্চার মধ্য দিয়ে তুলে ধরবেন নিজের জন্মভূমি ও মানুষের গল্প।