সিলেটে ৪৬ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত শাহজালাল ভ্যালী আবাসিক প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবদুল বাতেন ফয়সালকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সিলেট নগরের পায়রা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ মামলায় তাঁর এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৯২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড হয়েছিল।
আবদুল বাতেন ফয়সাল সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার জকিগঞ্জ সদর ইউনিয়নের রারাই গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আল্লামা হাবিবুর রহমান (মুহাদ্দিস ছাহেব)-এর ছেলে। তাঁর বর্তমান ঠিকানা সিলেট নগরের শাহজালাল উপশহরের ডি ব্লকের ৩০ নম্বর রোডের ৭ নম্বর বাসা।
আদালতের নথি সূত্রে জানা যায়, শাহজালাল ভ্যালী আবাসিক প্রকল্পে জমি দেওয়ার কথা বলে আবদুল বাতেন ফয়সাল তাঁর কাছ থেকে ৫৪ লাখ টাকা নিয়েছেন বলে মামলার বাদী মো. মাহতাব উদ্দিন আদালতে সাক্ষ্য দেন। এর মধ্যে ৮ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়। বাকি ৪৬ লাখ টাকার বিপরীতে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট একটি চেক দেন ফয়সাল।
বাদী ৯ ও ১৬ আগস্ট চেকটি ব্যাংকে জমা দিলেও পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় দুই দফায় তা প্রত্যাখ্যাত হয়। পরে আইনি নোটিশ পাঠানোর পরও টাকা পরিশোধ না করায় আদালতে মামলা করেন তিনি।
মামলাটি প্রথমে সিলেট সদর সি.আর. মামলা নম্বর ৭৫৫/২০১০ হিসেবে দায়ের করা হয়। পরবর্তী সময়ে এটি সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতে দায়রা মামলা নম্বর ২৫০৯/২০১৩ হিসেবে পরিচালিত হয়।
২০১৬ সালের ১১ এপ্রিল মহানগর দায়রা জজ মো. আকবর হোসেন মামলাটির রায় ঘোষণা করেন। রায়ে নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারায় আবদুল বাতেন ফয়সালকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৯২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, জরিমানার অর্থ থেকে ৪৬ লাখ টাকা বাদীকে পরিশোধ করতে হবে। অবশিষ্ট ৪৬ লাখ টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেন আদালত।
রায়ের নথিতে আসামিকে পলাতক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সাজা কার্যকরের জন্য কনভিকশন ওয়ারেন্টসহ রায়ের অনুলিপি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। পরোয়ানার কপিতে শাহপরান (রহ.) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বরাবর তা পাঠানোর বিষয়টিও উল্লেখ রয়েছে। দীর্ঘদিন পরোয়ানাভুক্ত থাকার পর মঙ্গলবার সিলেট নগরের পায়রা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
উল্লেখ্য, আব্দুল বাতিন ফয়সল শাহজালাল ভ্যালীর কথা বলে অস্যখ্য মানুষের লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন। বহু মানুষ সরল বিশ্বাসে তার কাছে বিনিয়োগ করে নিঃস্ব হয়েছেন।


