মূল কনটেন্টে যান
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬

গোয়াইনঘাটের কাপনা নদীতে সেতু নেই, দুর্ভোগে ১০ গ্রামের মানুষ


গোয়াইনঘাটের কাপনা নদীতে সেতু নেই, দুর্ভোগে ১০ গ্রামের মানুষ

গোয়াইনঘাট উপজেলার ডৌবাড়ী ইউনিয়নের দাতারী ও বলেশ্বর গ্রামের মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে কাপনা নদী। নদীর ওপর স্থায়ী সেতু না থাকায় দুই পাড়ের অন্তত ১০টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষকে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অসুস্থ রোগী ও কৃষকদের প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হয়। বর্ষা মৌসুমে খেয়া নৌকাই তাঁদের যাতায়াতের প্রধান ভরসা। এ অবস্থায় কাপনা নদীর ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডৌবাড়ী ইউনিয়নের হাকুর বাজার-মানিকগঞ্জ পাকা সড়ক থেকে পশ্চিম দিকে ডৌবাড়ী ঘোড়াইল কলেজ ও ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে যাতায়াতের সংযোগ সড়কে কাপনা নদীর অবস্থান। দাতারী, খলারছটি ও বাবনছটি জামে মসজিদের ঘাটসংলগ্ন এ নদীর দুই পাড়ে দাতারী, বলেশ্বর, শ্রীনাথপুর, বাবনছটিসহ আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের মানুষ বসবাস করেন। সেতু না থাকায় এসব গ্রামের বাসিন্দাদের প্রতিদিন যাতায়াতে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

এ সংযোগ সড়কের সঙ্গে রয়েছে বলেশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বলেশ্বর জামে মসজিদ, কান্দিগ্রাম-নগরডেংরি সড়ক, ঐতিহ্যবাহী মিছবাহুল উলূম ঘোড়াইল মাদ্রাসা ও ডৌবাড়ী ঘোড়াইল কলেজ। সেতু নির্মিত হলে ডৌবাড়ী স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, মনসুর মহসিন ডৌবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় এবং ডৌবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে যাতায়াতও সহজ হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা হারুন, রকিব, নিজাম ও নজরুল ইসলাম বলেন, কাপনা নদীর ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হলে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শ্রমজীবী ও দিনমজুরদের যাতায়াত সহজ হবে। এতে সময় ও অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসাসেবা গ্রহণ, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং দৈনন্দিন বাজার-সদাইয়ের কাজেও সুবিধা হবে।

বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বেড়ে গেলে পারাপারে ঝুঁকি আরও বাড়ে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় ও কলেজে যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অসুস্থ রোগীকে দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া এবং কৃষিপণ্য বাজারে পৌঁছানোও কঠিন হয়ে পড়ে।

মনসুর মহসিন ডৌবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও দাতারী গ্রামের বাসিন্দা মো. মোতাহির আলম বলেন, ২০০১-০২ শিক্ষাবর্ষে তাঁদের এলাকায় কোনো বিদ্যালয় না থাকায় খেয়া নৌকায় নদী পার হয়ে ডৌবাড়ী মনসুর মহসিন উচ্চ বিদ্যালয়ে যেতে হতো। দীর্ঘদিন পরও ওই ঘাটে সেতু নির্মিত হয়নি। অথচ জায়গাটি যোগাযোগের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে হাকুর বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য এখানে সেতু নির্মাণ জরুরি।

বলেশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা নাসরিন নাহার বলেন, “আমিসহ আমার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হয়। সরকার এখানে একটি সেতু নির্মাণ করে দিলে আমাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ দূর হবে।”

স্থানীয় যুবদল নেতা মোহাম্মদ আলী বলেন, দাতারী মসজিদের ঘাটে সেতু নির্মাণ এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি। এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর তৎকালীন গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলাম সরেজমিনে স্থানটি পরিদর্শন করেছিলেন। তবে এখনো সেতু নির্মাণের বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।

মোহাম্মদ আলী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এমপির দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, কাপনা নদীর ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মিত হলে দীর্ঘদিনের যাতায়াত সমস্যার সমাধান হবে। পাশাপাশি শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ সহজ হওয়ার সঙ্গে কৃষিপণ্য পরিবহন এবং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেরও প্রসার ঘটবে। জনদুর্ভোগ লাঘব ও এলাকার যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে দ্রুত সেতু নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ চান তাঁরা।