
সিলেটের সদর উপজেলায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে জাকির হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (১১ মে) রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত জাকির নিহত শিশুর প্রতিবেশী চাচা। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যার পর মরদেহ দুই দিন সুটকেসে লুকিয়ে রেখে পরবর্তীতে তা ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়েছিল।
মঙ্গলবার (১২ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিলেট মহানগর পুলিশের উত্তর জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। তিনি জানান, গত ৬ মে সকালে শিশুটিকে দোকান থেকে দুটি সিগারেট কিনে আনার কথা বলে নিজের ঘরে ডেকে নেয় জাকির। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে তাকে শারীরিক নির্যাতনের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। প্রমাণ লুকানোর উদ্দেশ্যে স্ত্রীর ওড়না দিয়ে পেঁচিয়ে শিশুটির মরদেহ একটি সুটকেসে ভরে দুই দিন নিজের ঘরেই রেখে দেয় অভিযুক্ত। পরে মরদেহে পচন ধরে গন্ধ ছড়াতে শুরু করলে শুক্রবার রাতের আঁধারে পাশের একটি ডোবায় ফেলে দেয় সে। ওই দিনই পুলিশ শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ঘটনার পর এলাকাবাসী যখন শিশুটিকে খুঁজছিল, তখন অভিযুক্ত জাকিরও তাদের সঙ্গে খোঁজাখুঁজিতে অংশ নেয়। এমনকি পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার সময়ও সে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিল।
এদিকে জাকিরের গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। সোমবার রাতে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে জালালাবাদ থানার সামনে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে মধ্যরাতে বিক্ষুব্ধ জনতা জাকিরের বাড়িতে হামলা চালায়।
উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “এখন পর্যন্ত সরাসরি অন্য কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে।” তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মেডিকেল রিপোর্ট পাওয়ার পর ধর্ষণের অভিযোগ যুক্ত করার বিষয়ে আইনি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হবে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।
মন্তব্য করুন
সম্পাদক ও প্রকাশক : জুবায়ের আহমদ
সম্পাদক কর্তৃক নিউ বর্নমালা অফসেড প্রেস, রাজা ম্যানশন,জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
রেজি নং : চ-৭০০, ডিক্লারেশন নং: সিল-১৪৩/১৪।