
একসময় মানুষের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ছিল হাতে লেখা চিঠি। প্রিয়জনের সুখ-দুঃখ, ভালোবাসা আর অপেক্ষার গল্প ভর করত সেই হলদে খামের পাতায়। দেশ-বিদেশে থাকা স্বজনদের সঙ্গে সম্পর্কের সেতুবন্ধন গড়ে উঠত এই চিঠিকে কেন্দ্র করে।
খুব বেশি দিন আগের কথা নয়—এক দশক আগেও যোগাযোগের অন্যতম ভরসা ছিল চিঠি। কিন্তু সময়ের পরিবর্তন আর আধুনিক প্রযুক্তির অগ্রগতিতে সেই চিঠির স্থান দখল করে নিয়েছে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটভিত্তিক যোগাযোগ মাধ্যম। ফলে একসময়কার আবেগঘন এই মাধ্যমটি আজ প্রায় হারিয়ে যাওয়ার পথে।
বর্তমানে দাপ্তরিক কিছু কাজে সীমিত আকারে চিঠির ব্যবহার থাকলেও ব্যক্তিগত যোগাযোগে এর প্রচলন প্রায় নেই বললেই চলে। পোস্ট অফিসগুলোতে এখন আর আগের মতো চিঠির ভিড় দেখা যায় না। ফাঁকা পড়ে থাকে লাল রঙের ডাকবাক্সগুলো, যা একসময় ছিল মানুষের আবেগের নীরব সাক্ষী।
বড়লেখা বাজারের ব্যবসায়ী কবির হোসেন বলেন, “চিঠি ছিল মানুষের হৃদয়ের ভাষা। এর মাধ্যমে একজন আরেকজনের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে উঠত। পরিবারের সুখ-দুঃখ, ভালোবাসা সবকিছুই প্রকাশ পেত চিঠিতে। এখন প্রযুক্তির কারণে মানুষ আর চিঠি লেখার প্রয়োজন অনুভব করে না। পোস্ট অফিসে এখন মূলত রেজিস্ট্রি ডাক, অফিসিয়াল কাগজপত্র বা সঞ্চয় সংক্রান্ত কাজই বেশি দেখা যায়।”
তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারে মানুষের জীবনযাত্রা সহজ হলেও হারিয়ে যাচ্ছে একসময়কার আবেগময় যোগাযোগের ধারা। দেশের প্রতিটি উপজেলায় পোস্ট অফিস থাকলেও ব্যক্তিগত চিঠি আদান-প্রদান এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে।
অযত্ন আর অবহেলায় পড়ে থাকা লাল ডাকবাক্স যেন স্মরণ করিয়ে দেয়—একসময় এখানেই জমা হতো অসংখ্য না বলা কথা, অপেক্ষা আর ভালোবাসার গল্প। এখন সেসব গল্প শুধু স্মৃতির পাতায়ই রয়ে গেছে।
মন্তব্য করুন
সম্পাদক ও প্রকাশক : জুবায়ের আহমদ
সম্পাদক কর্তৃক নিউ বর্নমালা অফসেড প্রেস, রাজা ম্যানশন,জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
রেজি নং : চ-৭০০, ডিক্লারেশন নং: সিল-১৪৩/১৪।