
ঈদুল ফিতর ঘনিয়ে আসায় বড়লেখা শহরের দর্জিপাড়ার ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে। পছন্দের পোশাক সময়মতো হাতে পেতে ক্রেতারা ছুটছেন শহরের বিভিন্ন টেইলার্সে।
উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারসহ পৌর শহরের দোকানগুলোতে ভিড় জমাচ্ছেন ফ্যাশন সচেতন ক্রেতারা। চাঁদরাতের আগেই পোশাক হাতে পেতে আগাম অর্ডার দিচ্ছেন তারা। বাড়তি চাহিদা সামাল দিতে অনেক দর্জিকেই অতিরিক্ত সময় কাজ করতে হচ্ছে। বড়লেখা বাজারের টেইলার্স মালিকদের সাথে যোগাযোগ করলে তারা জানান, রমজানের ২০ তারিখ পর্যন্ত তারা অর্ডার নেবেন।
তারা আরও বলেন, সবচেয়ে বেশি অর্ডার আসছে সালোয়ার-কামিজের। বিশেষ করে জর্জেট কাপড়ের চাহিদা এবার বেশি। দর্জির কাছে আসা এক নারী গ্রাহক বলেন, “ঈদে তৈরি পোশাকের চেয়ে নিজের পছন্দমতো ডিজাইন দিয়ে দর্জির তৈরি পোশাকই বেশি পছন্দ করি।”
লেডিস টেইলার্সের এক মালিক জানান, ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ক্রেতার সংখ্যা তত বাড়ছে। এবার ব্লাউজ ও বোরকার অর্ডার বেশি পাচ্ছেন তারা। তবে পৌর শহরের আরেক পরিচিত দর্জি জানান, কাজের চাপ থাকলেও গত বছরের তুলনায় কিছুটা কম। তিনি বলেন, “আগে রমজানের প্রথম কয়েক দিনের মধ্যেই অতিরিক্ত চাপে অর্ডার নেওয়া বন্ধ করতে হতো। এ বছর এখনও অর্ডার নিচ্ছি।” তাদের মতে, ভিড় আছে, তবে তা সামাল দেওয়া যাচ্ছে।
দর্জিরা জানান, সালোয়ার-কামিজ সেলাইয়ে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ব্লাউজ ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা, পেটিকোট ৮০ থেকে ১৩০ টাকা, গাউন ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, বোরকা ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং শিশুদের ফ্রক ২০০ থেকে ৩০০ টাকা রাখা হচ্ছে। তবে ডিজাইন ও কারুকাজ ভেদে খরচ বাড়বে। ভারী কাজের পোশাকে ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত মজুরি নেওয়া হচ্ছে।
পুরুষদের পোশাক তৈরিকারীরা জানান, এবার ঈদের আগে শার্ট-প্যান্টের তুলনায় পাঞ্জাবির চাহিদা বেশি। প্যান্ট সেলাইয়ে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা এবং শার্টে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।
বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ থাকলেও শেষ সময়ে ভিড় আরও বাড়বে বলে আশা করছেন দর্জিরা। তাদের প্রত্যাশা, রমজানের শেষ দিকে ক্রেতাদের ঢল নামবে এবং ব্যবসা আরও জমজমাট হবে। এতে উৎসবের মৌসুমে বাড়তি আয়ের মুখ দেখবেন এই কারিগররা।
মন্তব্য করুন
সম্পাদক ও প্রকাশক : জুবায়ের আহমদ
সম্পাদক কর্তৃক নিউ বর্নমালা অফসেড প্রেস, রাজা ম্যানশন,জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
রেজি নং : চ-৭০০, ডিক্লারেশন নং: সিল-১৪৩/১৪।