
ওলিয়ে কামিল শাহসুফী হযরত আল্লামা আব্দুল মান্নান চৌধুরী পীর ছাহেব শিঙ্গাইরকুড়ী (রহ.)-এর হাতে গড়া ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সোনাপুর মাজহারুল উলূম আলিম মাদ্রাসার ৭৫ বছর পূর্তি অনুষ্ঠান শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে পরদিন ফজর পর্যন্ত নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।
উপলক্ষে আয়োজিত ৭৫ বছর পূর্তি অনুষ্ঠান ও বার্ষিক ওয়াজ মাহফিলে তাশরীফ এনে তালিম ও তরবিয়ত প্রদান করেন মুর্শিদে বরহক, উস্তাদুল উলামা ওয়াল মুহাদ্দিসীন আল্লামা ইমাদ উদ্দীন চৌধুরী বড় ছাহেব কিবলাহ ফুলতলী।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মিয়া মো. নূরুল হক। তিনি বলেন, দেশের প্রান্তিক এলাকায় এমন একটি দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গৌরবের সঙ্গে ৭৫ বছর পূর্তি উদযাপন সত্যিই প্রশংসনীয়। মাদ্রাসাটির সার্বিক কার্যক্রম অত্যন্ত সন্তোষজনক। অবকাঠামোসহ সার্বিক উন্নয়নের দাবি শিগগিরই পূরণ হবে। ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি আলিম স্তরে উন্নীত হওয়ার পাশাপাশি বিজ্ঞান বিভাগে পাঠদানের অনুমতি পেয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মাদরাসা শিক্ষা আর অবহেলিত থাকবে না। আধুনিক যুগের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন কাঠামো ও দৃষ্টিভঙ্গিতে মাদরাসা শিক্ষাকে এগিয়ে নেওয়া হবে। ইনসাফপূর্ণ রাষ্ট্র গড়তে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, সাংবাদিক, বিচারপতি, সেনাপতিসহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে দায়িত্ব নিতে হবে। এতে সমাজে শান্তি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হবে।
প্রফেসর নূরুল হক বলেন, ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর নতুন বাংলাদেশ গড়ার সময় এসেছে। এই নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। তিনি বলেন, বিগত সরকারের আমলে লাখ লাখ কোটি টাকা দেশ থেকে পাচার হয়েছে, কিন্তু দুর্নীতি ও অনিয়মের সঙ্গে কোনো মাদরাসা শিক্ষার্থী জড়িত নয়। কারণ দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিতদের মধ্যে খোদাভীতি কাজ করে, যা অন্যায় থেকে দূরে রাখে।
তিনি আরও বলেন, গত ১৭ বছর ধরে মাদরাসা শিক্ষাকে পরিকল্পিতভাবে অবহেলা করা হয়েছে। বর্তমান সরকার এ খাতের বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে আন্তরিকভাবে কাজ করছে এবং ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আজকের শিক্ষার্থীদের শুধু ধর্মীয় জ্ঞানে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না; প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন, মানবিকতা ও নেতৃত্বগুণের বিকাশ ঘটিয়ে তাদের আধুনিক শিক্ষার মূলধারায় যুক্ত করতে হবে। সরকার মাদরাসা শিক্ষাকে সমান গুরুত্ব ও মর্যাদায় এগিয়ে নিতে বদ্ধপরিকর।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মনযুর উল হায়দার, জকিগঞ্জ সরকারি কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আব্দুল জব্বার, ঢাকা মদিনাতুল উলুম মহিলা কামিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা বদিউল আলম সরকার, মহাখালী হোসাইনিয়া কামিল মাদ্রাসার মুহাদ্দিস শায়খুল হাদীস মাওলানা মুফতি মাহবুবুর রহমান, পীরছাহেব শামসাবাদ দরবার, শাবিপ্রবির সহকারী অধ্যাপক মো. হেদায়েতুল্লাহ আল হাদি, সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক (গণিত) মো. রফিকুল হক, বাদেদেওরাইল ফুলতলী কামিল মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মাওলানা মাহমুদ হাসান চৌধুরী ফুলতলী, মাথিউরা ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. আব্দুল আলীম, বালাগঞ্জ ইসলামীয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. আব্দুল জব্বার, ভাটেরা কলেজের অধ্যক্ষ মো. ফখরুল ইসলাম, জকিগঞ্জ দাখিল মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারী সমিতির সভাপতি মাওলানা মো. আব্দুছ ছবুর, নবীগঞ্জ দারুস সুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার সুপার হাফিজ মাওলানা মো. ফারুক আহমদ, বরকতপুর মান্নানীয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মো. খলিলুর রহমান চৌধুরী, ডা. তফজ্জুল আলী বালিকা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মো. মুহিবুর রহমান এবং কাজী আব্দুল খালিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুর উদ্দিন।
বাস্তবায়ন কমিটির পক্ষে বক্তব্য দেন আল মামুন কয়ছর ও জাহেদ ফারহান। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন লন্ডন প্রবাসী হাজী আব্দুল হক ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা সমাজসেবী আবুল কালাম আজাদ, হাফিজ মজুমদার ট্রাস্টের সহকারী সচিব বাবু শুভ্রকান্তি দাস, ইকড়ছই ফাজিল মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মাওলানা মো. মাহবুবুর রহমান চৌধুরী শিঙ্গাইরকুড়ী, বাদেদেওরাইল ফুলতলী কামিল মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মো. বদরুল আলম, দুবাগবাজার দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মো. আব্দুল কাদির, পঞ্চগড় মির্জা গোলাম হাফিজ ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মো. আমাল হোসেন এবং জকিগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মাওলানা জুবায়ের আহমদ।
প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন হাফিজ আবু হানিফ মো. রুহিন, মাওলানা আবু হানিফ মো. নায়িম, মাওলানা আবু সাঈদ মো. আশিক, মো. গাউছুল আলম, মাওলানা বিলাল মাহমুদ তাপাদার, মাওলানা মো. ইমদাদুর রহমান, মাওলানা মো. এনামুল হক, অ্যাডভোকেট মো. জিয়াউর রহমান, মাওলানা ফয়সল আহমদ, মাওলানা মো. নুমান আহমদ প্রমুখ।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন মো. ইয়াছিন আলী, মাওলানা মো. ফখর উদ্দিন, মো. নজরুল ইসলাম রাসেল, মো. আব্দুল বাছিত, মো. ফারুক আহমদ, মো. আব্দুল কাদির, হাজী আব্দুল জলিল, মো. আব্দুর রব, সেবুল আহমদ, মাওলানা মো. আব্দুর রউফ ও মাওলানা মো. সায়েম উদ্দিন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্বে সভাপতিত্ব করেন প্রাক্তন ছাত্র পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা মো. আব্দুল আলীম এবং সোনাপুর মাজহারুল উলূম আলিম মাদ্রাসার সাবেক সুপার ও গভর্নিং বডির সভাপতি মাওলানা ফজলুর রহমান চৌধুরী শিঙ্গাইরকুড়ী।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. কুতবুল আলমের সার্বিক তত্বাবধানে অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন ৭৫ বছর পূর্তি উদযাপন কমিটির সহসভাপতি ও হবিবপুর কেশবপুর ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. আব্দুল হাকীম। সহযোগিতা করেন প্রাক্তন শিক্ষার্থী মো. হিফজুর রহমান ও মাওলানা মো. ইমদাদুর রহমান আজামি।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ২০২৫ সালের বার্ষিক পরীক্ষায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারীদের ‘সহপাঠী স্মৃতি মেধা বৃত্তি’ প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রকাশিত স্মারকগ্রন্থ ‘আত্মোচ্ছাস’-এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
উল্লেখ্য, ১৯৫১ সালে বরণ্য ওলিয়ে কামিল শাহসুফী আল্লামা আব্দুল মান্নান চৌধুরী (পীর ছাহেব শিঙ্গাইরকুড়ী) এ মাদ্রাসার ভিত্তি স্থাপন করেন। দীর্ঘ সাত দশকের বেশি সময় ধরে প্রতিষ্ঠানটি দ্বীনি ও আধুনিক শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। ২০২৫ সালে মাদ্রাসাটি ৭৫ বছরে পদার্পণ করেছে।
মন্তব্য করুন
সম্পাদক ও প্রকাশক : জুবায়ের আহমদ
সম্পাদক কর্তৃক নিউ বর্নমালা অফসেড প্রেস, রাজা ম্যানশন,জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
রেজি নং : চ-৭০০, ডিক্লারেশন নং: সিল-১৪৩/১৪।