
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বোগলাবাজার ইউনিয়নে ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি হারুনুর রশিদের নেতৃত্বে একটি মসজিদসহ একাধিক বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বোগলাবাজার ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি বালুচর গ্রামের মর্তুজ আলীর ছেলে হারুনুর রশিদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে বোগলাবাজার ইউনিয়নের সোনাচুরা গ্রামে তার নেতৃত্বে একদল লোক অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা একটি মসজিদসহ একাধিক বসতবাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং ঘরে থাকা মূল্যবান মালামাল লুটপাট করে। হামলা প্রতিরোধ করতে গেলে নারীসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন মোল্লাপাড়া গ্রামের মুসলেম উদ্দিনের ছেলে সাবেক সেনা সদস্য তাইজ উদ্দিন, সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ছাত্র হার্মাফিজ আহমদ তানিম, নোয়াগাঁও গ্রামের জালাল উদ্দিনের ছেলে শাহ আলমসহ আরও কয়েকজন। আহতরা বর্তমানে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার প্রতিবাদ ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার (১৭ ডিসেম্বর) বিকেলে বোগলাবাজার ইউনিয়নের সোনাচুরা গ্রামে এলাকাবাসীর উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান মাস্টার, বোগলাবাজার ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু, বিএনপি নেতা বাবুল মেম্বার, জয়নাল আবেদীন, আব্দুর রাজ্জাক, মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আব্দুল মজিদ, উপজেলা যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জামাল উদ্দিন, যুবদল নেতা খুরশেদ, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহিদ হাসান ইসলাম অনিক, বেলায়েত হোসেন, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য জহিরুল ইসলাম সানি, বোগলাবাজার ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ফারুক মিয়া, ইউনিয়ন ছাত্রদলের আহ্বায়ক নাজমুল ইসলাম, সোনাচুরা মসজিদের ইমাম মাওলানা রফিকুল ইসলাম এবং ভাঙচুরকৃত বাড়ির মালিক ছিদ্দিক আলম।
বক্তারা বলেন, পরিকল্পিতভাবে একটি মসজিদ ও নিরীহ মানুষের বাড়িঘরে হামলা চালানো অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ও ঘৃণ্য অপরাধ। তারা অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও মসজিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
মানববন্ধনে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত যুবদল সভাপতি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ভয়ভীতি প্রদর্শন, চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত। এসব কারণে সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না বলেও বক্তারা উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত হারুনুর রশিদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব জামাল উদ্দিন বলেন, দলীয় পদ ব্যবহার করে কোনো ধরনের অপরাধ সংঘটিত করা দলীয় আদর্শের পরিপন্থী। ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে সাংগঠনিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাধব রায় বলেন, দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি কিংবা কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ড করার কোনো সুযোগ নেই।
দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, ঘটনার বিষয়ে এখনো লিখিত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত মসজিদ কমিটির সভাপতি শাহ আলম ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুছ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, “আমাদের মসজিদে পরিকল্পিতভাবে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমরা সমাজবাসীর কাছে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি।”
মন্তব্য করুন
সম্পাদক ও প্রকাশক : জুবায়ের আহমদ
সম্পাদক কর্তৃক নিউ বর্নমালা অফসেড প্রেস, রাজা ম্যানশন,জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
রেজি নং : চ-৭০০, ডিক্লারেশন নং: সিল-১৪৩/১৪।