
সিলেট জেলায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নের পরিস্থিতি এখনও আশাব্যঞ্জক নয়। জেলা পর্যায়ের সাম্প্রতিক মূল্যায়নে প্রাপ্ত স্কোর মাত্র ৩৫ শতাংশ, যা প্রশাসনিক দুর্বলতা ও পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবের প্রতিফলন। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই অবস্থা উদ্বেগজনক—এমন চিত্র উঠে এসেছে জকিগঞ্জে অনুষ্ঠিত এক পর্যালোচনা সভায়।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) জকিগঞ্জে সিলেট ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি (এসডিএস)-এর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত “তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে সিলেট জেলার অবস্থা পর্যালোচনা” শীর্ষক সভায় ঘাটতি, চ্যালেঞ্জ ও করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় সহযোগিতা করে বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট ও ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট।
এসডিএসের নির্বাহী পরিচালক মো. আব্দুল হামিদ সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন জকিগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাংবাদিক জুবায়ের আহমদ, দৈনিক রূপালী বাংলাদেশের জকিগঞ্জ প্রতিনিধি সাংবাদিক আব্দুল মুকিত এবং খলাছড়া জনকল্যাণ সংস্থার সদস্য সচিব মো. ময়নুল হক। আলোচনায় অংশ নেন সমাজকর্মী অনিতা মালাকার, সুমি রায় ও রাহেনা বেগম।
সভায় উত্থাপিত প্রতিবেদনে বলা হয়, জেলার সরকারি ও বেসরকারি দপ্তর, হাসপাতাল ও গণপরিবহন এলাকায় ধূমপান নিষিদ্ধ সংক্রান্ত সাইনেজ নেই বা মানসম্মত নয়। অনেক ক্ষেত্রে সাইনেজ থাকলেও পর্যাপ্ত মনিটরিং নেই। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে। এমআরপি ও লাইসেন্স বাস্তবায়নেও শৈথিল্য বিদ্যমান, ফলে খুচরা বিক্রেতারা দায়মুক্ত।
জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে গঠিত টাস্কফোর্স কমিটির সভা নিয়মিত না হওয়ায় আইন প্রয়োগ কার্যত দুর্বল। এতে জেলার সার্বিক স্কোর কমে ৩৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
সভায় সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে জকিগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক জুবায়ের আহমদ বলেন, “৩৫ শতাংশ স্কোরই প্রমাণ করে—আইন আছে, কিন্তু প্রয়োগ নেই। প্রশাসনের পাশাপাশি গণমাধ্যমের ধারাবাহিক ফলোআপ ছাড়া পরিস্থিতি পরিবর্তন সম্ভব নয়।”
এসডিএসের নির্বাহী পরিচালক মো. আব্দুল হামিদ বলেন, “আজকের এই পর্যালোচনা সভা শুধু তথ্য উপস্থাপন নয়, বরং সিলেট জেলায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ভিত্তি তৈরি করেছে। জনস্বাস্থ্য উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রশাসনকে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন এবং তামাক ও তামাকজাত পণ্য বিক্রেতাদের লাইসেন্সের আওতায় আনতে হবে।”
সভায় অংশগ্রহণকারীরা সুপারিশ করেন—
জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নিয়মিত টাস্কফোর্স সভা ও অভিযান চালানো, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল এলাকায় কঠোর নজরদারি, এমআরপি ও লাইসেন্স বাস্তবায়নে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম জোরদার, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বাজার মনিটরিংয়ে আইন অন্তর্ভুক্তকরণ, শিশু ও কিশোরদের সুরক্ষায় সচেতনতা কার্যক্রম সম্প্রসারণ।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আজকের সভা সিলেট জেলায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নতুন চাপ ও প্রত্যাশা তৈরি করেছে, যা ভবিষ্যতে কার্যকর পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে।
মন্তব্য করুন
সম্পাদক ও প্রকাশক : জুবায়ের আহমদ
সম্পাদক কর্তৃক নিউ বর্নমালা অফসেড প্রেস, রাজা ম্যানশন,জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
রেজি নং : চ-৭০০, ডিক্লারেশন নং: সিল-১৪৩/১৪।