
ত্যাগের মহিমা, মানবিকতার শিক্ষা ও সাম্যের অমিয় বাণী নিয়ে আজ সিলেটসহ সারা দেশে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে উদ্যাপিত হচ্ছে মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। দীর্ঘ পথযাত্রার নানা ভোগান্তি ও ক্লান্তি উপেক্ষা করে নাড়ির টানে প্রিয়জনদের কাছে ছুটে এসেছেন সাধারণ মানুষ। আপনজন আর প্রতিবেশীদের এই মহামিলনে পুণ্যভূমি সিলেটসহ দেশজুড়ে নতুন করে উজ্জীবিত হয়ে উঠেছে বাঙালির চিরায়ত সামাজিক ও পারিবারিক সৌহার্দ্যের বন্ধন।
হিজরি সনের জিলহজ মাসের ১০ তারিখে এই উৎসব পালিত হয়ে থাকে। আজ ২৮ মে, বৃহস্পতিবার দেশবাসী মেতেছেন কোরবানির এই আনন্দে। ঈদুল ফিতরের মতো এই উৎসবে চাঁদ দেখা নিয়ে আগে থেকে কোনো অনিশ্চয়তা থাকে না, বরং ১০ দিন আগেই উৎসবের দিনক্ষণ নিশ্চিত হয়ে যায়। ফলে পশু কেনাকাটা থেকে শুরু করে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার যাবতীয় প্রস্তুতি আগেভাগেই সম্পন্ন করার সুযোগ পান ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। কবি কাজী নজরুল ইসলামের ভাষায়, ‘ঈদজ্জোহার চাঁদ হাসে ঐ এলো আবার দুস্রা ঈদ/ কোরবানি দে কোরবানি দে শোন্ খোদার ফর্মান তাকিদ।।’
এবারের ঈদ এমন একটি সময়ে এসেছে যখন দেশের সাধারণ মানুষ নানা সংকটের মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করছেন। হাওরাঞ্চলের ফসলহানি এবং হামের প্রাদুর্ভাবে অনেক মায়ের কোল খালি হওয়ার মতো দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে। এর ওপর যুক্ত হয়েছে দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতির চাপ, যা সাধারণ মানুষের আয় ও ব্যয়ের সমীকরণকে কঠিন করে তুলেছে। তবে জীবনের এই কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও ঈদের উৎসব থেমে থাকেনি। সব প্রতিকূলতা একপাশে সরিয়ে রেখে সামর্থ্যের সীমানার মধ্যেই মানুষ খুঁজে নিচ্ছেন পারস্পরিক মিলন, আনন্দ ভাগাভাগি ও যৎসামান্য স্বস্তির মুহূর্ত।
ইসলামী বিধান অনুযায়ী প্রতিটি সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য পশু কোরবানি করা ওয়াজিব। এ প্রসঙ্গে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সতর্ক করে বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকার পরও কোরবানি দিল না, সে যেন আমার ঈদগাহে না আসে।’ আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে আজ নামাজ শেষে যার যার সাধ্যমতো পছন্দের পশু কোরবানি দেবেন সচ্ছল মুসলমানরা। এর আগে সকালে ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সব শ্রেণির মানুষ নতুন কিংবা পরিষ্কার পোশাক পরিধান করে, সুগন্ধি মেখে ঈদগাহ ও মসজিদে সমবেত হবেন। সেখানে সবাই এক কাতারে দাঁড়িয়ে ঈদের নামাজ আদায় করবেন এবং নামাজ শেষে কোলাকুলির মাধ্যমে ছড়িয়ে দেবেন পারস্পরিক ভ্রাতৃত্বের চিরন্তন বার্তা।
সিলেটসহ সারা দেশে বৃষ্টির সম্ভাবনা
এদিকে উৎসবের এই দিনে সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি অনুযায়ী, সিলেট, ঢাকা, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগের অধিকাংশ স্থানে এবং রংপুর, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় অস্থায়ী দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সিলেটের আঞ্চলিক এলাকাসহ দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন
সম্পাদক ও প্রকাশক : জুবায়ের আহমদ
সম্পাদক কর্তৃক নিউ বর্নমালা অফসেড প্রেস, রাজা ম্যানশন,জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
রেজি নং : চ-৭০০, ডিক্লারেশন নং: সিল-১৪৩/১৪।