
সিলেটের পাথর কোয়ারিগুলোতে আবারও প্রাণ ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে এবং আদালতের নির্দেশনা মেনে সিলেট ও সুনামগঞ্জের কোয়ারিগুলো সীমিত আকারে ইজারা দেওয়ার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে) সচিবালয়ে এ সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ পরিকল্পনার কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, কোয়ারিগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি যাচাই ও কারিগরি দিক পর্যালোচনার জন্য সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারকে আহ্বায়ক করে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিতে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক, খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পরিচালক, ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর এবং দুই জেলার পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের রাখা হয়েছে। কমিটি মূলত সরেজমিনে সীমান্ত এলাকার নদীগুলো পরিদর্শন করে দেখবে কোথায় পাথর জমার কারণে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে কিংবা নদীভাঙনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত জাফলংয়ের মতো পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকাগুলো আপাতত ইজারা প্রক্রিয়ার বাইরে থাকছে। তবে বিছানাকান্দি বা ভোলাগঞ্জের মতো এলাকাগুলোতে পর্যটন সুবিধা ঠিক রেখে কীভাবে নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে পাথর আহরণ করা যায়, সে বিষয়ে কমিটি সুপারিশ দেবে। এ ছাড়া পাথর লুটপাট বা কোনো ধরনের দুর্বৃত্তায়ন ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর অবস্থানে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আদালতের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, পাথর কোয়ারি নিয়ে উচ্চ আদালতে কিছু মামলা ও রায় বিচারাধীন রয়েছে। এই আইনি জটিলতা নিরসনে আইন মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় দুই জেলা প্রশাসককে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় থেকে তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকার আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে বিধি মোতাবেক পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।
আগামী ৩১ মে’র মধ্যে গঠিত কমিটিকে তাদের প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে সরকার পুনরায় বৈঠকে বসবে এবং তখনই পাথর কোয়ারি চালুর বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা আসতে পারে।
মন্তব্য করুন
সম্পাদক ও প্রকাশক : জুবায়ের আহমদ
সম্পাদক কর্তৃক নিউ বর্নমালা অফসেড প্রেস, রাজা ম্যানশন,জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
রেজি নং : চ-৭০০, ডিক্লারেশন নং: সিল-১৪৩/১৪।