জকিগঞ্জের রারাই গ্রামের সন্তান তিনি—যাঁর কলম সত্যের পক্ষে, যাঁর নেতৃত্ব সমাজের উন্নয়নে নিবেদিত।
সাংবাদিকতা যেন তাঁর কাছে কেবল পেশা নয়, এটি তাঁর মনের ভাষা, সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা, এবং অবহেলিত মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠার এক মহান ব্রত। এমন একজন মানুষ হলেন সাংবাদিক জুবায়ের আহমদ—জকিগঞ্জ উপজেলার এক পরিচিত মুখ, যিনি দীর্ঘদিন ধরে সাহসিকতা ও নিষ্ঠার সাথে গণমাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছেন।
জন্ম ও শিক্ষা:
১৯৯০ সালের ২০ আগস্ট সিলেট জেলার ঐতিহ্যবাহী গ্রাম রারাইতে জন্মগ্রহণ করেন সাংবাদিক জুবায়ের আহমদ। পরিবারে তিনি ছিলেন প্রথম সন্তান। তাঁর পিতা, মরহুম আলহাজ্ব আব্দুছ ছামাদ (মাসুক মিয়া), ছিলেন একজন সমাজসেবক ও ‘শতদল’ এনজিও সংস্থার ভাইস চেয়ারম্যান। এমন এক মূল্যবোধসম্পন্ন পরিবেশেই গড়ে উঠেছেন তিনি।
তিনি এম.সি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, সিলেট থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। পরে ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া থেকে হাদীস বিষয়ে কামিল (স্নাতকোত্তর) ডিগ্রি লাভ করেন।
পেশাগত জীবন:
বর্তমানে তিনি সাপ্তাহিক সবুজ প্রান্ত পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক। পাশাপাশি জাতীয় দৈনিক ইনকিলাব ও সিলেটের স্থানীয় দৈনিক পুণ্যভূমি-এর জকিগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন। সংবাদ সংগ্রহে তাঁর নিষ্ঠা, লেখনীতে সাহসিকতা ও তথ্য উপস্থাপনায় সততা তাঁকে করেছে জনবান্ধব একজন সংবাদযোদ্ধা।
লেখক পরিচয়:
লেখালেখির ক্ষেত্রেও রয়েছে তাঁর বিচরণ। ২০১২ সালে জকিগঞ্জ লেখক পরিষদ আয়োজিত দুইদিনব্যাপী বইমেলায় প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম গ্রন্থ অপসংস্কৃতির আগ্রাসন। সমাজ, সংস্কৃতি ও নৈতিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে এই বইটি তখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে।
সংগঠন ও নেতৃত্ব:
তিনি বর্তমানে জকিগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি। এছাড়াও এনজিও সংস্থা ‘শতদল’-এর নির্বাহী পরিচালক, জকিগঞ্জ নাগরিক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক, জকিগঞ্জ সাংস্কৃতিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক এবং ঈদে মীলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করছেন।
একজন সমাজসেবক:
জুবায়ের আহমদের চিন্তা ও কর্মকাণ্ডের মূল কেন্দ্রে রয়েছে—সমাজ পরিবর্তন। নদীভাঙন প্রতিরোধ, রাস্তাঘাট সংস্কার, শিক্ষা বিস্তার, মাদক প্রতিরোধ—প্রতিটি ইস্যুতে তিনি সোচ্চার। পত্রিকার পাতায় যেমন, তেমনি জনসভা, মিটিং কিংবা সামাজিক উদ্যোগে সবখানেই তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে।
পারিবারিক জীবন:
জীবনের ব্যস্ততা ও দায়িত্বের মধ্যেও তিনি একজন আদর্শ পারিবারিক মানুষ। তাঁর স্ত্রী জাহানারা বেগম একজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। তাঁদের দুই কন্যা—আয়শা তাবাচ্ছুম মীম ও খাদিজা তারান্নুম মানহা—হাস্যোজ্জ্বল, স্বপ্নবাহী ছোট্ট দুই প্রদীপ।
উদ্ধৃতি:
“সাংবাদিকতা আমার পেশা নয়, আমার দায়বদ্ধতা। মানুষের কথা বলা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো, সত্যকে তুলে ধরা—এই দায়িত্বই আমার কাছে ইবাদতের মতো।”
—জুবায়ের আহমদ
সাম্প্রতিক আলোচিত ঘটনা:
২০২৫ সালের ২৭ এপ্রিল সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের এক চিকিৎসক কর্তৃক এক রোগী ও তার স্বজনের সঙ্গে অশোভন আচরণের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা দ্রুতই ভাইরাল হয়। ভিডিওটি বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হলে, সরকারি হাসপাতালের করুণ চিত্র সারাদেশে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। সাহসিকতার সঙ্গে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আনার পর সাংবাদিক জুবায়ের আহমদ দেশব্যাপী প্রশংসিত হন।
সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও দাবির পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে এবং ঘটনার তদন্তে ৬ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করে। নির্যাতিত রোগীর পাশে দাঁড়িয়ে সাংবাদিক জুবায়ের আহমদ শেষ পর্যন্ত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেন। এ ঘটনা দেশের মূলধারার গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন তোলে।
উপসংহার:
সাংবাদিক জুবায়ের আহমদের মতো মানুষ সমাজে দুর্লভ। তিনি তাঁর লেখনী দিয়ে যেমন সত্যকে প্রতিষ্ঠা করছেন, তেমনি সামাজিক নেতৃত্ব দিয়ে তৈরি করছেন একটি আলোকিত জকিগঞ্জ। তাঁর জীবন ও কর্মকাণ্ড হয়ে উঠুক আগামী প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় এক পাঠ।
মন্তব্য করুন
সম্পাদক ও প্রকাশক : জুবায়ের আহমদ
সম্পাদক কর্তৃক নিউ বর্নমালা অফসেড প্রেস, রাজা ম্যানশন,জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
রেজি নং : চ-৭০০, ডিক্লারেশন নং: সিল-১৪৩/১৪।