মূল কনটেন্টে যান
শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬
শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬

আত্মমর্যাদার কাছে হার মানছে অসুস্থতা, চিকিৎসার অভাবে পা হারানোর শঙ্কায় মাওলানা আমিনুল

খালি পেটে ডায়াবেটিস ৩৮-৩৯ পয়েন্ট, পায়ে পচন ধরা ক্ষত; চিকিৎসায় প্রয়োজন প্রায় লাখ টাকা, কারও কাছে সাহায্য চাইতেও নারাজ তিনি


জুবায়ের আহমদ
সম্পাদক
আত্মমর্যাদার কাছে হার মানছে অসুস্থতা, চিকিৎসার অভাবে পা হারানোর শঙ্কায় মাওলানা আমিনুল
অসুস্থ মাওলানা আমিনুল ইসলামের শয্যাপাশে জকিগঞ্জ সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা আফতাব আহমদ

জকিগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ভরণ গ্রামের মাওলানা আমিনুল ইসলাম। একসময় ছিলেন ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে নিবেদিতপ্রাণ। জ্ঞানার্জনের পথে পাড়ি দিয়েছেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। অথচ আজ গুরুতর অসুস্থ হয়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি। উচ্চমাত্রার ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়ে তাঁর পায়ে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। সেই ক্ষতে পচন ধরেছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ক্ষত না শুকালে তাঁর পা কেটে ফেলতে হতে পারে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য প্রায় লাখ টাকার প্রয়োজন হলেও আর্থিক সংকটে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে তাঁর চিকিৎসা।

মাওলানা আমিনুল ইসলাম জকিগঞ্জ সিনিয়র মাদ্রাসার আলিম প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। পরবর্তী সময়ে বাদেদেওরাইল ফুলতলী মাদ্রাসা থেকে ফাজিল এবং সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা থেকে কামিল সম্পন্ন করেন। একসময় তালামীযে ইসলামিয়ার একজন নিবেদিত কর্মী হিসেবেও পরিচিত ছিলেন তিনি।

জকিগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা আফতাব আহমদ তাঁর অসুস্থতার খবর জানিয়ে বলেন, আমিনুল ইসলাম বর্তমানে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তাঁর ডায়াবেটিসের মাত্রা অত্যন্ত বেশি। খালি পেটে ডায়াবেটিসের মাত্রা ৩৮-৩৯ পয়েন্ট পর্যন্ত থাকছে। ডায়াবেটিসের জটিলতায় তাঁর পায়ে ক্ষত সৃষ্টি হয়ে পচন ধরেছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ক্ষত না শুকালে পা কেটে ফেলার প্রয়োজন হতে পারে।

আফতাব আহমদ বলেন, গতকাল তাঁকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলাম। সেখানে উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি সামর্থ্য অনুযায়ী কিছু আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় তা খুবই অপ্রতুল। তাঁর চিকিৎসায় প্রায় লাখ টাকার প্রয়োজন হতে পারে। অথচ আর্থিক দৈন্যতার কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

আমিনুল ইসলামের আত্মমর্যাদাবোধের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, মানুষটির আত্মসম্মানবোধ এতটাই প্রবল যে, জীবনে কখনো কাউকে নিজের অভাব-অনটনের কথা বুঝতে দেননি। কারও কাছে কিছু চাওয়া তাঁর কাছে যেন আকাশ ভেঙে পড়ার মতো অকল্পনীয় বিষয়। এমনকি নিজের জীবনসংকটের মুহূর্তেও তিনি কারও কাছে সহযোগিতা চাইতে নারাজ।

আফতাব আহমদের ভাষায়, তাঁকে দেখে মনে হয়েছে, আমরা কতটা নিষ্ঠুর হয়ে উঠেছি! টাকা নামের সোনার হরিণের অভাবে কত মানুষের জীবন বিপন্ন হচ্ছে। একজন মানুষ আত্মমর্যাদার কারণে নিজের কষ্টের কথা বলতে পারছেন না, অথচ তাঁর চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান হচ্ছে না। মহান রবের কাছে আমরা কী জবাব দেব?

একসময় যিনি শিক্ষাজীবন, ধর্মীয় কর্মকাণ্ড ও সংগঠনের কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন, আজ সেই মানুষটিই হাসপাতালের বিছানায় জীবনসংকটের মুখোমুখি। নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করতে না পারা এই মানুষটির পাশে দাঁড়ানোর এখনই সময়।

মাওলানা আমিনুল ইসলামের সাবেক সহপাঠী, পরিচিতজন, তালামীযে ইসলামিয়ার সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের প্রতি তাঁর চিকিৎসায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মাওলানা আফতাব আহমদ। তাঁদের সম্মিলিত সহযোগিতায় হয়তো ব্যয়বহুল চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে। বেঁচে যেতে পারে একজন মানুষের পা, ফিরে আসতে পারে তাঁর স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আশা।