১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে জকিগঞ্জের ঐতিহাসিক ভূমিকার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি নতুন করে সামনে এসেছে। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় জকিগঞ্জকে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম মুক্তাঞ্চল হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বক্তারা। তাঁদের মতে, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে জকিগঞ্জের অবদান জাতীয় পর্যায়ে যথাযথভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন। সভায় প্রধান অতিথি সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মোহাম্মদ আবুল হাসান জানান, এ দাবির পক্ষে তিনি ইতিমধ্যে জাতীয় সংসদে কথা বলেছেন।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে জকিগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজিত কুমার চন্দ। সমাজসেবা কর্মকর্তা বিনয় ভূষণ দাসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন ইউএনও কার্যালয়ের অফিস সহায়ক আছলাম আহমদ। গীতা পাঠ করেন পার্থ বিশ্বাস।
সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আবু সাঈদ শুভ্র, জকিগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মনোজ প্রভাকর রায়, জকিগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি মাসুক আহমদ, সাধারণ সম্পাদক শিব্বির আহমদ রনি, জকিগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক জুবায়ের আহমদ, জকিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক মুন্না, ইসলামী আন্দোলন জকিগঞ্জ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা জয়নুল ইসলাম, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি সৈয়দ আছলাম হোসেন, পৌর বিএনপির সহসভাপতি মুনিম আহমদ ও সহসাধারণ সম্পাদক আব্দুল গফুর প্রমুখ।
আলোচনায় ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটও উঠে আসে। বক্তারা বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁকবদলের দিন। সেদিন সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান বন্দিদশা থেকে মুক্তি পান। তাঁদের বক্তব্যে দিনটি জাতীয় ঐক্য, সংহতি ও রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়। বিএনপি দিনটিকে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালন করে।
বক্তারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে জকিগঞ্জের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও প্রথম মুক্তাঞ্চল হিসেবে পরিচিতির বিষয়টি সামনে আনেন। তাঁরা বলেন, জকিগঞ্জের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ইতিহাস শুধু স্থানীয় গৌরবের বিষয় নয়, এটি জাতীয় ইতিহাসেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতিবছর ২১ নভেম্বর জকিগঞ্জ মুক্তাঞ্চল দিবস পালনের মধ্য দিয়ে স্থানীয়ভাবে এ ঐতিহাসিক অধ্যায় স্মরণ করা হয়। তবে এ ইতিহাসের যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি এখনো প্রত্যাশিত। এ জন্য জকিগঞ্জকে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম মুক্তাঞ্চল হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ নিতে সংসদ সদস্যের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।
প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য মুফতি মোহাম্মদ আবুল হাসান বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস দেশের জাতীয় জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারকে এ ক্ষেত্রে সহযোগিতা করা প্রয়োজন।
জকিগঞ্জের মুক্তাঞ্চলের স্বীকৃতির বিষয়ে তিনি বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম মুক্তাঞ্চল হিসেবে জকিগঞ্জের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি তিনি ইতিমধ্যে জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেছেন। আশা করছেন, সরকার এ দাবি বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেবে। এ জন্য রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে সব মহলকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, রাজনৈতিকভাবে আমরা বিভিন্ন দলের হতে পারি, কিন্তু জকিগঞ্জের স্বার্থে সবাই ঐক্যবদ্ধ।
আলোচনা সভার আগে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।
দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে জকিগঞ্জ বালক উচ্চবিদ্যালয় মাঠে উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভার মধ্যে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ খেলায় পৌরসভা দল ২-১ গোলে উপজেলা প্রশাসন দলকে পরাজিত করে।


