দেশজুড়ে এখন দুই ধরনের মানুষ দেখা যাচ্ছে। একদল রাগ করলা বলে। আরেকদল সারাদিন রাগ করলা শুনে মানসিকভাবে আহত। ফেসবুকে ঢুকলেই এখন মনে হয় কেউ নিউজফিড চালাচ্ছে না বরং পুরো প্ল্যাটফর্মটা কোনো গণক সমিতির অধীনে চলে গেছে।
সকালে ঘুম থেকে উঠে মানুষ আগে দেখত শুভ সকাল। এখন দেখে রাগ করলা। রাতে ঘুমানোর আগে মানুষ আগে গান শুনত। এখন শুনছে কথাটা ঠিক না বেঠিক। ঠিক। রাগ করলা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি ডায়ালগ এত দ্রুত মানুষের মাথায় ঢুকেছে যে অনেকে নাকি বাস্তব জীবনেও স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে ভুলে গেছে। রাজধানীর এক অফিসে বস তার কর্মচারীকে জিজ্ঞেস করেছেন রিপোর্ট কই। কর্মচারী নাকি উত্তরে বলেছে একটু দেরি হইছে রাগ করলা। এরপর থেকে তাকে আর অফিসে দেখা যায়নি।
ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল নিষিদ্ধ ভোট চুরির সুযোগ : হাসনাত আবদুল্লাহ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ফেসবুকের ভেতরের গোপন সূত্র জানিয়েছে সার্ভারগুলোও এখন অতিষ্ঠ। প্রতিদিন কোটি কোটি পোস্টে একই ডায়ালগ দেখে এক সার্ভার নাকি হ্যাং হয়ে শেষবারের মতো লিখেছিল আমি আর পারতেছি না রাগ করলা।
এদিকে মার্ক জাকারবার্গের ঘনিষ্ঠ সূত্র দাবি করেছে তিনি নাকি গতকাল রাতে তিন ঘণ্টা ধরে বুঝতে চেষ্টা করেছেন এই রাগ করলা আসলে নতুন কোনো রাজনৈতিক দল নাকি ধর্মীয় সংগঠন। পরে একজন বাংলাদেশি কর্মচারী তাকে পুরো ঘটনা বুঝিয়ে বললে তিনি দীর্ঘশ্বাস ফেলে নাকি বলেন আমি মেটাভার্স বানাইতে চাইলাম আর এরা বানাইল রাগভার্স।
ট্রেন্ডের ভয়াবহতা এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে প্রেমিক প্রেমিকাদের ঝগড়াতেও নতুন মোড় এসেছে। আগে প্রেমিকা বলত তুমি বদলে গেছো। এখন বলে অনলাইনে ছিলা রিপ্লাই দাও নাই রাগ করলা। ছেলেরা নিরাপত্তার স্বার্থে এখন শুধু একটা উত্তর মুখস্থ রাখছে না না রাগ করি নাই।
গ্রামগঞ্জেও এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। হাটে গরু বিক্রি করতে গিয়ে এক বিক্রেতা দাম বলেছে এক লাখ। ক্রেতা বলেছে অনেক বেশি। তখন বিক্রেতা শান্তভাবে বলেছে গরুটা দেশি রাগ করলা। পরে দুজনকেই চায়ের দোকানে বসে একই ডায়ালগ বলতে দেখা গেছে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এক শিক্ষক পরীক্ষার খাতায় শূন্য দিয়ে লিখেছেন পড়ালেখা করো নাই রাগ করলা। অন্যদিকে এক ছাত্র খাতায় শুধু লিখেছে পাশ করাই দেন স্যার রাগ করলা।
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন মানুষ এখন আর দুঃখ প্রকাশ করে না। সবকিছু মজায় উড়িয়ে দেয়। চাকরি নাই রাগ করলা। টাকা নাই রাগ করলা। বিয়ে হচ্ছে না রাগ করলা। এমনকি মোবাইলে চার্জ নাই তাও রাগ করলা।
তবে জাতির জন্য সবচেয়ে ভয়ংকর খবর এসেছে গতরাতে। জানা গেছে কিছু মানুষ এখন বাস্তব জীবনেও কথা শেষ করার পর অজান্তেই রাগ করলা বলে ফেলছে। এতে পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
এতক্ষণ এই প্রতিবেদন পড়ে যদি মনে হয় একটু বেশি হয়ে গেছে…তাহলে শেষ প্রশ্ন—রাগ করলেন?


