
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার তোয়াকুল ইউনিয়নে স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও নিজস্ব ইউনিয়ন ভূমি অফিস প্রতিষ্ঠিত হয়নি। দীর্ঘদিনের এ অচলাবস্থা ও প্রশাসনিক জটিলতায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বর্তমানে রুস্তমপুর ইউনিয়নের লামার বাজার এলাকায় তোয়াকুল ইউনিয়ন ভূমি অফিস নামে একটি ভবন থাকলেও সেখানে রুস্তমপুর ইউনিয়নের ভূমি সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অন্যদিকে, তোয়াকুল ইউনিয়নের বাসিন্দাদের জমিজমা সংক্রান্ত কাজের জন্য যেতে হচ্ছে নন্দীরগাঁও ইউনিয়নের সালুটিকর বাজারস্থ ভূমি অফিসে। এতে সময়, অর্থ ও ভৌগোলিক দূরত্বজনিত কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
স্থানীয়দের মধ্যে এ নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। রুস্তমপুর ইউনিয়নের বাসিন্দাদের প্রশ্ন—তাদের এলাকায় তোয়াকুলের নামে ভূমি অফিস কেন? আবার তোয়াকুলবাসীর প্রশ্ন—নিজস্ব ইউনিয়নে ভূমি অফিস না থাকায় তারা কেন অন্য ইউনিয়নে গিয়ে সেবা নেবেন?
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৬৮ সালে বৃহত্তর তোয়াকুল ইউনিয়নের আওতায় বর্তমান তোয়াকুল ও কোম্পানীগঞ্জের কিছু এলাকা অন্তর্ভুক্ত ছিল। সে সময় ইউনিয়নের বিস্তৃতি বেশি থাকায় ভূমি অফিস নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হলেও তোয়াকুল এলাকায় উপযুক্ত জায়গা না পাওয়ায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন ঝুলে যায়। পরে রুস্তমপুর ইউনিয়নের সচেতন মহল উদ্যোগ নিয়ে অফিসটি নিজেদের এলাকায় স্থাপন করে। সেই থেকে আজ পর্যন্ত এ জটিলতা বহাল রয়েছে।
রুস্তমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাবুদ্দিন শিহাব বলেন, “আমাদের ইউনিয়নে তোয়াকুলের নামে ভূমি অফিস থাকাটা বিব্রতকর। নাম পরিবর্তনের জন্য মন্ত্রণালয় পর্যন্ত যোগাযোগ করা হলেও অদৃশ্য কারণে কোনো সমাধান হয়নি।”
স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা জানান, অতীতে যাই ঘটুক না কেন, বর্তমান বাস্তবতায় তোয়াকুল ইউনিয়নের নিজস্ব ভূমি অফিস অত্যন্ত জরুরি। এর অভাবে দীর্ঘদিন ধরে মানুষ হয়রানি ও বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন।
এ বিষয়ে সালুটিকর ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত ভূমি কর্মকর্তা মো. মনজুর আহমদ আতহার জানান, “তোয়াকুল নামে একটি ভবন থাকলেও বাস্তবে ওই নামে কোনো কার্যকর অফিস নেই। যেসব ইউনিয়নে ভূমি অফিস নেই, সেগুলোর তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। তোয়াকুল বাজারে ভূমি অফিসের জন্য অধিগ্রহণকৃত জমি নিয়ে মামলাও চলমান রয়েছে।”
উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা ওমর ফারুক বলেন, “প্রতিটি ইউনিয়নে আলাদা ভূমি অফিস নেই। একাধিক ইউনিয়ন মিলেও একটি অফিস পরিচালিত হয়। তবে তোয়াকুলসহ যেসব ইউনিয়নে অফিস নেই, সেগুলোর তালিকা ইতোমধ্যে প্রেরণ করা হয়েছে।”
তোয়াকুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ লোকমান বলেন, “ভূমি অফিস না থাকায় আমরা দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত। নতুন করে অফিস স্থাপনের জন্য ২০ শতক জমি প্রয়োজন হলেও তা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। সরকার প্রয়োজনীয় নীতিমালায় কিছুটা শিথিলতা আনলে এ সমস্যার সমাধান হতে পারে।”
দীর্ঘদিনের এ জটিলতা নিরসনে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তোয়াকুল ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণ। তাদের প্রত্যাশা, নিজস্ব ইউনিয়নে ভূমি অফিস স্থাপনের মাধ্যমে ভোগান্তির অবসান ঘটবে।
মন্তব্য করুন
সম্পাদক ও প্রকাশক : জুবায়ের আহমদ
সম্পাদক কর্তৃক নিউ বর্নমালা অফসেড প্রেস, রাজা ম্যানশন,জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
রেজি নং : চ-৭০০, ডিক্লারেশন নং: সিল-১৪৩/১৪।