
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় আদালতের জারি করা ১৪৪ ধারা অমান্য করে প্রকাশ্যে খামারের রাস্তায় বেড়া দিয়ে চলাচলের পথ বন্ধ করে দিয়ে আদালত অবমাননার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এদিকে ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে।
অভিযোগে প্রেক্ষিতে জানা যায়, উপজেলার ইউনিয়নের নন্দিরগাঁও মৌজার পারিজাত এর্গ্রো ফার্মের চলাচলের একমাত্র রাস্থায় ইয়াছিন আলী, ইব্রাহীম আলী ও আব্দুল মুমিন (পিতা- মৃত বরকত উল্লাহ) আদালতের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জোরপূর্বক বেড়া দিয়ে খামারের মালামাল পরিবহন, উৎপাদন পন্য বাজারজাতকরণ পরিবহন ও চলাচলের একমাত্র রাস্তায় বেড়া দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে।
ভুক্তভোগী পক্ষের দাবি, পারিজাত এর্গ্রো ফার্মের চলাচলের একমাত্র রাস্থায় বাধা বিঘ্ন নিরসনের প্রেক্ষিতে ফার্মের পরিচালক ২০২২ সালের জেলার শ্রেষ্ট মৎস্য উদ্যোক্তা ফয়েজ আহমদ গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (১ম আদালত)-এ ফৌজদারী কার্যবিধির ১৪৪ ধারায় মামলা (গোয়াইনঘাট বিবিধ ৪১/২০২৬) দায়ের করেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে উক্ত ভূমিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গোয়াইনঘাট থানাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করেন।
পরে থানা কর্তৃপক্ষ সালুটিকর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এ.এস.আই (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ সারোয়ারকে তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়। তিনি ২৭ ফেব্রুয়ারি উভয় পক্ষকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার জন্য ১৪৪ দ্বারা নোটিশ জারি করেন এবং রাস্তার বেড়াটি তুলেদেন।
তবে অভিযোগ রয়েছে, গত ১৮ মার্চ অভিযুক্তরা অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনকে সঙ্গে নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে উক্ত রাস্তায় পুনরায় আরো শক্ত ভাবে বেড়া বসিয়ে দেয়।
এ বিষয়ে বিবাদীদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করার চেষ্টা করলে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, তারা প্রকাশ্যে আদালতের আদেশ অমান্য করে কাজ চালিয়ে যান, যা আইনের শাসনের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। এতে করে জনমনে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।
ভুক্তভোগী পারিজাত এর্গ্রো ফার্মের পরিচালক ফয়েজ আহমদ বলেন,
“আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ থাকার পরও তারা জোর করে বেড়া নির্মাণ করে করছে। প্রশাসনকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
স্থানীয়দের মতে, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি যেকোনো সময় সংঘাতমুখী হয়ে উঠতে পারে এবং বড় ধরনের আইনশৃঙ্খলা অবনতি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে সালুটিকর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের (গোয়াইনঘাট) তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সারোয়ার’র এর সাথে জানতে চাইলে তিনি বলেন “আমার কাজ নোটিশ প্রদান করা, আমি নোটিশ দিয়েছ ফোনে আর কিছু বলতে পারবোনা। উনারা যদি কোর্টে ওয়ান ফোরটিফোর ভেঙে তাহলে তারা এসিল্যান্ডের সাথে যোগাযোগ করুক”
মন্তব্য করুন
সম্পাদক ও প্রকাশক : জুবায়ের আহমদ
সম্পাদক কর্তৃক নিউ বর্নমালা অফসেড প্রেস, রাজা ম্যানশন,জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
রেজি নং : চ-৭০০, ডিক্লারেশন নং: সিল-১৪৩/১৪।