
২ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ব্যয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়ক সংস্কারে ব্যাপক অনিয়ম ও গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। সংস্কার প্রক্রিয়া পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই রাস্তাটির বিভিন্ন অংশের পিচ ও পাথর উঠে গিয়ে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী ও বিটুমিন ব্যবহার করে কাজ করায় সড়কটির এই বেহাল দশা হয়েছে। সরকারের বিপুল অঙ্কের এই বাজেটের কাজের মান নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় (এলজিইডি) থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে গ্রামীণ সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পের অধীনে খাইরাই-বঙ্গবীর হাদারপার জিসি সড়কের বঙ্গবীর থেকে হাদারপার বাজার পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কারের জন্য এই অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। মেসার্স হাবিব এন্ড সন্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি বরাদ্দ পেলেও বর্তমানে সাব-ঠিকাদার হিসেবে এটি বাস্তবায়ন করছেন রুস্তুমপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ। প্রকল্পটির প্রায় ৯৫ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বঙ্গবীর পয়েন্ট থেকে শুরু করে হাদারপার বাজারের পেট্রোল পাম্প পর্যন্ত সড়কের নানা জায়গায় কার্পেটিং উঠে ভেতরের ইটের সুরকি বেরিয়ে এসেছে। বিশেষ করে রুস্তুমপুর কলেজের সম্মুখভাগ থেকে পাতনী ভার্ড স্কুলের সামনে এবং ডোমবাড়ী মোড়া থেকে পেট্রোল পাম্প পর্যন্ত অংশের রাস্তা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ও জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
এলাকার যাতায়াতকারী অটোরিকশা চালক রহিম উদ্দিনসহ একাধিক ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সংস্কার কাজের শুরু থেকেই নিম্নমানের খোয়া ও বিটুমিন ব্যবহারের কারণে ঢালাই দেওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই তা উঠে যাচ্ছে। সরকারের এত বড় অঙ্কের টাকা ব্যয়ের পরও কোনো সুফল পাওয়া যাচ্ছে না এবং বর্ষা মৌসুম শুরু হলে এই পথ দিয়ে সাধারণ মানুষের চলাচল সম্পূর্ণ অসম্ভব হয়ে পড়বে।
কাজে কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে সাব-ঠিকাদার আবুল কালাম আজাদ দাবি করেন, নির্ধারিত ১৫ মিলিমিটারের চেয়েও বেশি অর্থাৎ ১৭ মিলিমিটার পুরু কার্পেটিং করা হয়েছে। তবে বৃষ্টির পানি, গরুর গোবর ও মূত্র এবং সড়কের ওপর ঝুলে থাকা গাছের ডালপালা থেকে চুইয়ে পড়া পানির কারণে কার্পেটিং নষ্ট হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। একই সাথে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলো পুনরায় ঠিক করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।
এদিকে কাজের মান নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে স্থানীয় রুস্তুমপুর ইউপি চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন শিহাব জানান, সড়কটি মেরামতের নামে শুরু থেকেই ব্যাপক অনিয়ম ও নয়-ছয় করা হয়েছে, যার ফলে কাজ শেষ হওয়ার আগেই বড় বড় গর্ত তৈরি হচ্ছে। এই ব্যর্থতার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় উভয়কেই দায়ী করে তিনি বলেন, বিষয়টি তিনি ইতিমধ্যে মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায় উত্থাপন করেছেন।
এই বিষয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) হাসিব আহমেদ জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণেই মূলত বৃষ্টির মধ্যে তাড়াহুড়ো করে কাজ করায় কার্পেটিং উঠে গেছে। ঠিকাদারকে এখনো কাজের চূড়ান্ত বিল পরিশোধ করা হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো দ্রুত সংস্কার করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সার্বিক বিষয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যে তিনি বিষয়টি অবগত হয়েছেন। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে তদন্তের মাধ্যমে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন
সম্পাদক ও প্রকাশক : জুবায়ের আহমদ
সম্পাদক কর্তৃক নিউ বর্নমালা অফসেড প্রেস, রাজা ম্যানশন,জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
রেজি নং : চ-৭০০, ডিক্লারেশন নং: সিল-১৪৩/১৪।