
সিলেটের দক্ষিণ সুরমার সিলামে হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ.) ওয়াকফ এস্টেটের পরিচালনা নিয়ে বিরোধের জেরে দুইপক্ষের সংঘর্ষে পুলিশসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা এ সংঘর্ষে ইটপাটকেল ও দেশীয় অস্ত্র ব্যবহারের ঘটনা ঘটে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে মোগলাবাজার থানার সিলাম এলাকার চকের বাজার হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ.) জামে মসজিদ ও ঈদগাহের সামনে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় চন্ডিপুল-বালাগঞ্জ সড়কে যান চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়।
পুলিশ জানায়, ওয়াকফ এস্টেটের মাজার, মসজিদ এবং এর আওতাধীন ৩৫ থেকে ৪০টি দোকানকোঠার নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা নিয়ে সিলাম শেখপাড়া এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। শুক্রবার উভয় পক্ষের লোকজন নামাজ পড়তে মসজিদে গেলে বাইরে এ বিষয়গুলো নিয়ে প্রথমে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। পরে তা হাতাহাতি এবং একপর্যায়ে সংঘর্ষে গড়ায়।
এ সময় দুই পক্ষের লোকজন ইটপাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। খবর পেয়ে মোগলাবাজার থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে হামলা-পাল্টাহামলায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেনসহ সাত পুলিশ সদস্য আহত হন। দুই পক্ষের আরও ২৫ থেকে ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন শেখপাড়া গ্রামের প্রবীণ মুরব্বী ও হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ.) জামে মসজিদের মোতাওয়াল্লী ফজলু মিয়া, শুয়েব আহমদ, আরিফুল হক রনি ও লতিফুর রহমান মেহদি। এছাড়া শাহ আব্দুল মান্নান, শাহ আবুল, শাহ সুমন, শাহ বদরুল, শাহ হাসান উদ্দিন, শাহ মাহির, শাহ রাজিব, শাহ সায়েম, শাহ সাদি, শাহ আব্দুর রহিম, শাহ আশিকুর রহমান এপলু, শাহ সাবের, শাহ রাসেল, শাহ ফাহিম, শাহ সাইফ, শাহ আজমল, শাহ আশরাফ, শাহ আবজল, শাহ সাইদ, শাহ তুহিন, শাহ দুলাল, শাহ আলবাব, শাহ ওয়াহিদ, শাহ হারুন, শাহ ইয়াসির ও শাহ নয়ন রয়েছেন।
আহতদের দক্ষিণ সুরমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, মুরব্বি এবং মোগলাবাজার থানা পুলিশের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বর্তমানে এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
বিরোধের পেছনে ওয়াকফ কমিটি
হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ.) মাজার ওয়াকফ এস্টেট (ইসি নং–১২৭৩৫) পরিচালনা নিয়ে বিরোধের বিষয়টি সাম্প্রতিক নয়। গত ২৯ জুলাই ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ ওয়াকফ এস্টেটের প্রশাসকের একটি আদেশে এস্টেট পরিচালনার জন্য নয় সদস্যের কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
কমিটিতে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিককে সভাপতি এবং দক্ষিণ সুরমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সহ-সভাপতি করা হয়। মো. ফজলু মিয়াকে মোতাওয়াল্লী, আবেদ রাজা ও আহমদুর রহমান ছাদেককে যুগ্ম মোতাওয়াল্লী করা হয়। কমিটির সদস্য হিসেবে রাখা হয় মোয়াজ্জেম হোসেন লনি, লুতফুর রহমান বাবু, আব্দুল মতিন শাহিন ও আব্দুস সামাদকে।
ওই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে শাহ আব্দুল মান্নান উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন নং ১০৭৬৭/২৬ ইং দায়ের করেন। গত ১৬ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের বিজয়-৭১ ভবনের ৩ নম্বর আদালতে রিটটির শুনানি হয়।
বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি সৈয়দ মো. তাজরুল হোসাইনের আদালতে শুনানি শেষে বাংলাদেশ ওয়াকফ এস্টেট অনুমোদিত কমিটি বহাল রাখা হয়। তবে সাময়িকভাবে ওই কমিটির মোতাওয়াল্লী ফজলু মিয়ার কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।
একই সঙ্গে হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ.) মাজার ওয়াকফ এস্টেট ও মসজিদের দায়িত্ব পালনের জন্য আবেদ রাজাকে মোতাওয়াল্লী হিসেবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়।
হাইকোর্টের ওই আদেশের কয়েক দিনের মধ্যেই ওয়াকফ এস্টেটের পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল।
মন্তব্য করুন
সম্পাদক ও প্রকাশক : জুবায়ের আহমদ
সম্পাদক কর্তৃক নিউ বর্নমালা অফসেড প্রেস, রাজা ম্যানশন,জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
রেজি নং : চ-৭০০, ডিক্লারেশন নং: সিল-১৪৩/১৪।