
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পশুর হাটগুলোতে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দেশি গরুর পাশাপাশি সীমান্ত দিয়ে আসা ভারতীয় গরুর সরবরাহ ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে এক বছর ধরে গবাদিপশু লালন-পালন করা স্থানীয় খামারি ও প্রান্তিক কৃষকেরা তাঁদের পশুর ন্যায্য মূল্য পাওয়া নিয়ে চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে পড়েছেন।
উপজেলার হাদারপার বাজারে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দেশি পশুর তুলনায় ওপারে উৎপাদিত গরুর দাম কিছুটা কম হওয়ায় ক্রেতাদের একটি বড় অংশ সেদিকেই ঝুঁকছেন। এতে স্থানীয় খামারিদের মধ্যে হতাশা ছড়িয়ে পড়ছে। অনেকেই এই ব্যবসার ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। বিকল্প কোনো কর্মসংস্থান না থাকায় কেউ কেউ খামার বন্ধ করার কথাও ভাবছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে বেকারত্ব বৃদ্ধি এবং সামাজিক অপরাধের প্রবণতাকে বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনেরা।
স্থানীয় গবাদিপশু পালনকারীদের অভিযোগ, রাসায়নিক ও ফরমালিনযুক্ত খাবার খাইয়ে কৃত্রিম উপায়ে মোটাতাজা করা ভারতীয় গরুগুলো সহজেই ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে। তাছাড়া, অবৈধ পথে কোনো ধরনের শুল্ক বা রাষ্ট্রীয় কর না দিয়ে সীমান্ত পার করে আণায় চোরাকারবারিরা এগুলো অনেক কম দামে বিক্রি করতে পারছে। সুযোগ বুঝে চোরাই ব্যবসায়ীরা পূর্বঘোষণা ছাড়াই বিভিন্ন যানবাহনে করে দ্রুত এই পশুগুলো বাজারে নামিয়ে দিচ্ছে। তাদের এই অসম প্রতিযোগিতার কৌশলের কাছে টিকতে না পেরে দেশীয় খামারিরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। অনেকে আবার বিভিন্ন ব্যাংক বা সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে পশুপালন শুরু করেছিলেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে আসল টাকা ঘরে তোলা নিয়েই এখন টানাটানি তৈরি হয়েছে।
হাদারপার হাটে গরু বিক্রি করতে আসা কয়েকজন খামারি জানান, ‘পশুখাদ্যের দাম বৃদ্ধি, চিকিৎসা খরচ, পরিবহন ও শ্রম ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় গরু পালন আগের তুলনায় অনেক বেশি ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।’ এই অতিরিক্ত বিনিয়োগের পর বাজারে ভারতীয় গরুর আধিক্য তৈরি হওয়ায় দেশি পশুর বাজার ধসে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে অপর এক খামারি বলেন, “সারা বছর কষ্ট করে গরু পালন করি, কিন্তু বাজারে ভারতীয় অবৈধ গরু বেশি থাকায় আমাদের গরুর দাম কমে যায়। এতে আমরা হতাশ হয়ে পড়ছি।”
এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে দেশীয় প্রাণিসম্পদ খাত ও প্রান্তিক কৃষকদের বাঁচাতে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ভুক্তভোগীরা। খামারিরা জোর দাবি জানিয়ে বলেন, দেশীয় খামারি ও গৃহস্থ কৃষকদের টিকিয়ে রাখতে সীমান্তে নজরদারি জোরদার এবং অবৈধ গরু প্রবেশ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যতে নতুন কোনো উদ্যোক্তা তৈরি হবে না এবং অনেকেই এই পেশা স্থায়ীভাবে ছেড়ে দিতে বাধ্য হবেন।
মন্তব্য করুন
সম্পাদক ও প্রকাশক : জুবায়ের আহমদ
সম্পাদক কর্তৃক নিউ বর্নমালা অফসেড প্রেস, রাজা ম্যানশন,জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
রেজি নং : চ-৭০০, ডিক্লারেশন নং: সিল-১৪৩/১৪।