আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন ব্যবহারে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দেওয়া নিষেধাজ্ঞাকে ‘হঠকারী সিদ্ধান্ত’ বলে অভিহিত করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ। আজ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানান।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত এবং জামায়াতসহ ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য সমর্থিত এই প্রার্থী তাঁর পোস্টে দাবি করেন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মূলত ‘ভোট চুরির সুযোগ’ করে দেওয়া হচ্ছে।
হাসনাত আবদুল্লাহ তাঁর ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, “ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধের অর্থ হলো সবাইকে নিজের মোবাইল ঘরে রেখে যেতে হবে। এমনকি কোনো মোজো সাংবাদিক বা সিটিজেন জার্নালিজমও এলাউড না। এটা স্পষ্টত হঠকারী সিদ্ধান্ত। ইঞ্জিনিয়ারিং বা জালিয়াতি করার ইচ্ছে থাকলেই কেবল এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।”
বিশেষ করে মোবাইল সাংবাদিকদের (মোজো) ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সিসি ক্যামেরা থাকলেও তাৎক্ষণিক কোনো কাজে দিবে না। মোবাইলের মাধ্যমে সাংবাদিকরা যেভাবে ভূমিকা রাখতে পারবে, অনিয়ম জালিয়াতির চিত্র দেখাতে পারবে তা ক্যামেরা পারবে না। কেন্দ্র দখল-ভোট চুরি ঠেকাতে ব্যক্তিগত ফোন কার্যকর হবে। সাথে সাথেই ভিডিও রেকর্ড হয়ে যাবে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, নিরাপত্তার সংকটে অনেকে মোবাইল ছাড়া ভোট দিতে যেতে আগ্রহী হবেন না। অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।
ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে ফোন নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়াকে ভয় করেই তো আমরা এই কাজটা করেছি। টু কন্ট্রোল সোশ্যাল মিডিয়া, যেটা আমি কন্ট্রোল করতে পারি না। সেজন্য বলছি যে ভোট দেওয়ার সময় ফোন নেবেন না।”
ভোটারদের অসুবিধার কথা স্বীকার করে এই কমিশনার আরও বলেন, “ভোটিং প্রসিডিউরে ফোন নেওয়া যাবে না। যদি কেউ ভুলে ফোন নিয়ে যান, তিনি প্রিজাইডিং অফিসারের কাছে রেখে ভোট দিতে যাবেন।”
ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, কেন্দ্রে শুধুমাত্র প্রিজাইডিং অফিসার, পুলিশ ইনচার্জ এবং নির্দিষ্ট দুজন আনসার সদস্য ফোন ব্যবহার করতে পারবেন।
মন্তব্য করুন
সম্পাদক ও প্রকাশক : জুবায়ের আহমদ
সম্পাদক কর্তৃক নিউ বর্নমালা অফসেড প্রেস, রাজা ম্যানশন,জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
রেজি নং : চ-৭০০, ডিক্লারেশন নং: সিল-১৪৩/১৪।