মূল কনটেন্টে যান
রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬
রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬

পাহাড়, নদী আর ঝরনার টানে গোয়াইনঘাটে একদিন, ঘুরে দেখলাম বিছনাকান্দি-উৎমাছড়া-পান্থুমাই

প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে মুগ্ধতা, পাথরবিছানো নদী, অন্যদিকে পাহাড়ি ছড়া, আবার কোথাও সীমান্তের ওপারের ঝরনা


জুবায়ের আহমদ
সম্পাদক
পাহাড়, নদী আর ঝরনার টানে গোয়াইনঘাটে একদিন, ঘুরে দেখলাম বিছনাকান্দি-উৎমাছড়া-পান্থুমাই
গোয়াইনঘাটের বিছনাকান্দিতে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য যে কারোর মন ছুয়ে দেয়।

সিলেটের পর্যটন মানচিত্রে গোয়াইনঘাট যেন প্রকৃতির হাতে আঁকা এক অনন্য ছবি। কোথাও পাহাড়ের সবুজ সারি, কোথাও পাথরবিছানো নদী, কোথাও পাহাড়ি ছড়ার স্বচ্ছ জলধারা, আবার কোথাও দূরের পাহাড় বেয়ে নেমে আসা ঝরনার মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। প্রকৃতির এমন বিচিত্র রূপ কাছ থেকে দেখতে গত ১৮ অক্টোবর, রবিবার, অফিসিয়াল কাজের ফাঁকে গোয়াইনঘাটের কয়েকটি পর্যটন এলাকা ঘুরে দেখার সুযোগ হয়।

ইউনিয়ন পরিষদে অফিসিয়াল কাজ শেষে ওই ইউনিয়নের এএসিও জাহাঙ্গীরকে সঙ্গে নিয়ে শুরু হয় ভ্রমণ। গন্তব্য ছিল বিছনাকান্দি, উৎমাছড়া, পান্থুমাইসহ আশপাশের কয়েকটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত স্থান। ব্যস্ত কর্মজীবনের বাইরে এমন ভ্রমণ যেন প্রকৃতির সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোর সুযোগ করে দেয়।

গোয়াইনঘাটের নবসৃষ্ট বিছনাকান্দি ইউনিয়নে অবস্থিত সিলেটের অন্যতম পরিচিত পর্যটনকেন্দ্র। মেঘালয়ের পাহাড়ি প্রাকৃতিক পরিবেশ, পাথরবিছানো নদী, স্বচ্ছ পানির প্রবাহ এবং বিস্তৃত সবুজ ভূদৃশ্য এ জায়গার প্রধান আকর্ষণ। বর্ষাকালে পাহাড়ি ঢল, জলধারা ও মেঘের আনাগোনায় বিছনাকান্দির সৌন্দর্য বিশেষভাবে ফুটে ওঠে।

এখানে এসে চোখে পড়ে পাহাড়ের পাদদেশে নদীর বিস্তৃত জলরাশি, পানির মধ্যে ছড়িয়ে থাকা নানা আকারের পাথর এবং দূরের সবুজ পাহাড়ের সারি। প্রকৃতির এই সমন্বিত দৃশ্য পর্যটকদের ছবি তোলা, নৌভ্রমণ ও নিরিবিলি সময় কাটানোর জন্য আকৃষ্ট করে। ঋতু ও পানির উচ্চতা বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে বিছনাকান্দির দৃশ্যেও আসে ভিন্নতা।

ভ্রমণের আরেকটি আকর্ষণ ছিল উৎমাছড়া। সিলেটের সীমান্তঘেঁষা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পরিচিত গন্তব্যগুলোর মধ্যে এটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। মেঘালয়ের পাহাড় থেকে নেমে আসা ছড়ার পানি, পাথুরে জলপথ, সবুজ প্রকৃতি এবং পাহাড়ি পরিবেশ এ এলাকার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য।

পাহাড়ি ছড়ার পাশে দাঁড়িয়ে প্রকৃতির নিজস্ব সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। যারা শহরের ব্যস্ততা থেকে কিছুটা দূরে গিয়ে পাহাড়, পানি ও সবুজের কাছাকাছি সময় কাটাতে চান, তাদের জন্য উৎমাছড়া হতে পারে আকর্ষণীয় গন্তব্য। তবে বর্ষায় পানির প্রবাহ বেড়ে গেলে পাথুরে পথ ও ছড়ার আশপাশে চলাচলে সতর্ক থাকা জরুরি।

গোয়াইনঘাটের পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের পান্থুমাইও প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে পরিচিত একটি পর্যটন এলাকা। মেঘালয়ের পাহাড়ঘেঁষা পরিবেশ, পিয়াইন নদীর বিস্তৃতি এবং সীমান্তের ওপারে দৃশ্যমান ঝরনা এ এলাকার সৌন্দর্যকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে।

পান্থুমাইয়ের ঝরনার মূল অংশ ভারতের ভূখণ্ডে অবস্থিত। বাংলাদেশের দিক থেকে নির্ধারিত স্থানেই দাঁড়িয়ে ঝরনা ও আশপাশের পাহাড়ি দৃশ্য উপভোগ করা যায়। বর্ষাকালে পানির প্রবাহ বেশি থাকলে ঝরনার সৌন্দর্য আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। পাহাড়, নদী ও ঝরনার সম্মিলিত দৃশ্য পর্যটকদের কাছে এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে উঠতে পারে।

ভ্রমণের পুরো সময় ছায়ার মতো পাশে থেকে পথ দেখিয়েছে স্থানীয় তরুণ হোসাইন আহমদ। বিছনাকান্দি বাজারে তার বাবার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বসে সে। স্থানীয় এলাকা সম্পর্কে তার পরিচিতি ও আন্তরিক সহযোগিতায় বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র ঘুরে দেখা সহজ ও উপভোগ্য হয়েছে।

অচেনা জায়গায় স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা ভ্রমণকে আরও স্বস্তিদায়ক করে তোলে। হোসাইনের আন্তরিক সঙ্গ সেই অভিজ্ঞতাকে আরও সুন্দর করেছে।

দুপুরে পর্যটন এলাকার একটি ব্যস্ত রেস্টুরেন্টে খাবার খাওয়ার বিরতিও ছিল ভ্রমণের অংশ। পর্যটকদের আনাগোনা, স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যস্ততা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ মিলিয়ে এলাকাগুলোর পর্যটন সম্ভাবনার চিত্রও চোখে পড়ে।

বিছনাকান্দি, উৎমাছড়া ও পান্থুমাইয়ের মতো স্থানগুলো সিলেটের প্রাকৃতিক পর্যটনের বৈচিত্র্য তুলে ধরে। একদিকে পাথরবিছানো নদী, অন্যদিকে পাহাড়ি ছড়া, আবার কোথাও সীমান্তের ওপারের ঝরনা। একই অঞ্চলের ভিন্ন ভিন্ন প্রাকৃতিক রূপ পর্যটকদের জন্য তৈরি করে বৈচিত্র্যময় ভ্রমণ-অভিজ্ঞতা।

সিলেট শহর থেকে গোয়াইনঘাটের এসব এলাকায় সড়কপথে যাওয়া যায়। গন্তব্য ও মৌসুম অনুযায়ী কোথাও স্থানীয় নৌযান বা অতিরিক্ত যাতায়াতের ব্যবস্থা প্রয়োজন হতে পারে। তাই ভ্রমণের আগে স্থানীয়ভাবে যাতায়াতের অবস্থা জেনে নেওয়া ভালো। সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলা এবং পাহাড়ি ছড়া ও পাথুরে স্থানে সতর্ক থাকা জরুরি।

অফিসিয়াল কাজের সূত্রে শুরু হওয়া এ যাত্রা শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠেছিল প্রকৃতির কাছাকাছি কিছু সময় কাটানোর সুন্দর উপলক্ষ। আলহামদুলিল্লাহ, পাহাড়, নদী, ঝরনা ও সবুজের মেলবন্ধনে গোয়াইনঘাটের এই ভ্রমণ মন ভরিয়ে দিয়েছে। প্রকৃতির এমন সৌন্দর্য উপভোগ করতে সুযোগ পেলেই ঘুরে আসতে পারেন সিলেটের এই অপরূপ জনপদ থেকে।