সিলেটের জকিগঞ্জে ঠিকাদারি কাজের মান, বিল পরিশোধ ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঠিকাদার মোস্তাক আহমদ চৌধুরী ও সাব্বির আহমদের কাজ নিয়ে জনমনে সন্দেহের বিষয়টি তুলে ধরেছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি শফিকুর রহমান। শনিবার (১৭ অক্টোবর) উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় তিনি এ বিষয়ে বক্তব্য দেন। একই সভায় গঙ্গাজল-রসুলপুর-ছয়ঘরি সড়কের কাজের মান ও বিল পরিশোধ নিয়ে অভিযোগ তোলেন সাংবাদিক কেএম মামুন। এদিকে, শেওলা-জকিগঞ্জ সড়কের সংস্কারকাজের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও এলজিইডির কর্মকর্তারা।
সভায় শফিকুর রহমান বলেন, ঠিকাদার মোস্তাক আহমদ চৌধুরী ও সাব্বির আহমদ যেখানে কাজ করবেন, সেখানেই তাঁদের নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। তাঁর ভাষ্য, তাঁরা বর্তমানে কোনো অনিয়ম না করলেও সাধারণ মানুষ তাঁদের কাজ নিয়ে সন্দেহ করতে পারে।
সাংবাদিক কেএম মামুন অভিযোগ করেন, গঙ্গাজল-রসুলপুর-ছয়ঘরি সড়কের আড়াই কিলোমিটার অংশে কার্পেটিং করার তিন মাসের মধ্যে তা উঠে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন ঠিকাদার মোস্তাক আহমদ চৌধুরীকে আটক করলে তিনি সুপারিশ করে তাঁকে ছাড়িয়ে দেন বলে দাবি করেন মামুন।
কেএম মামুনের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই সময় মোস্তাক আহমদ চৌধুরী বলেছিলেন, সড়কের গার্ডওয়ালের কাজ বাকি রয়েছে। গার্ডওয়ালের কাজ শেষ হলে কার্পেটিং ঠিক করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। তবে পরবর্তী সময়ে সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন সাংবাদিক মামুন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী তাজুল ইসলাম নিজ দায়িত্বে ঠিকাদার মোস্তাক আহমদ চৌধুরীর বিল পরিশোধ করেন। পরবর্তী সময়ে প্রকৌশলী ও ঠিকাদার কেউই তাঁদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেননি বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে বারহাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ঠিকাদার মোস্তাক আহমদ চৌধুরী বলেন, গঙ্গাজল-রসুলপুর-ছয়ঘরি সড়কের বিল এখনো পরিশোধ করা হয়নি। যেসব স্থানে কার্পেটিং উঠে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, সেগুলো ভরাট করে দেওয়ার পর তিনি বিল পাবেন।
উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী তাজুল ইসলাম ইনকিলাবকে বলেন, ঠিকাদার মোস্তাক আহমদ চৌধুরীর কাজের পূর্ণ বিল এখনো বকেয়া রয়েছে। তাঁর সিকিউরিটি বাবদ দেড় কোটি টাকা এবং কাজের বিল বাবদ আরও প্রায় দেড় কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরিদর্শনের পর এসব বিল পরিশোধ করা হবে। সংশ্লিষ্ট কাজগুলো সম্পন্ন করলেই ঠিকাদার বিল পাবেন বলে জানান তিনি।
এদিকে, শেওলা-জকিগঞ্জ সড়কের সংস্কারকাজ নির্ধারিত প্রাক্কলন অনুযায়ী সম্পন্ন করা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীদের সরাসরি তদারকি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে শেওলা-জকিগঞ্জ রাস্তা সংস্কার বাস্তবায়ন পরিষদ।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় জকিগঞ্জ উপজেলার বীরশ্রী ইউনিয়নের জামডহর সমিলের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনের আগে জামডহর সমিলের সামনে সড়ক সংস্কারকাজে ব্যবহৃত ইটের মান নিয়ে এক স্থানীয় যুবক প্রশ্ন তোলেন। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁর মতবিরোধ হয় বলে জানা গেছে। তবে ব্যবহৃত ইটের মান এবং কাজ নির্ধারিত প্রাক্কলন অনুযায়ী হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন।
সংস্কারকাজের ধরন সম্পর্কে উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. আজমীর শরীফুল ইসলাম ইনকিলাবকে বলেন, ঠিকাদার মোস্তাক আহমদ চৌধুরীর ছয় কিলোমিটার অংশের মধ্যে তিন কিলোমিটার আরসিসি ঢালাই এবং বাকি তিন কিলোমিটার বিটুমিন দিয়ে নির্মাণের প্রাক্কলন করা হয়েছে। প্রাক্কলন অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করলে ঠিকাদার সে অনুযায়ী বিল পাবেন বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, মোস্তাক আহমদ চৌধুরী বলেন, শেওলা-জকিগঞ্জ সড়কের কাজে বিটুমিনের পরিবর্তে আরসিসি ঢালাই দেওয়া হবে এবং তা কমপক্ষে ৫০ বছর স্থায়ী হবে বলে তিনি আশাবাদী। বালু ও সিমেন্টের মিশ্রণের অনুপাত ৯:১ নিয়ে ওঠা অভিযোগ তাঁর কাজের অংশের নয়, বরং অন্য ঠিকাদারের অংশের বলে দাবি করেন তিনি। কিছু মানুষ না বুঝেই অহেতুক তাঁর সমালোচনা করছেন বলেও মন্তব্য করেন মোস্তাক আহমদ চৌধুরী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শেওলা-জকিগঞ্জ সড়কের ১৭ কিলোমিটার সংস্কারকাজের টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং তিনজন ঠিকাদার কাজ পেয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, সড়কটির সংস্কারকাজের মান নিশ্চিত করতে নিয়মিত প্রকৌশলগত তদারকি, কাজের অগ্রগতি ও মান যাচাই করে বিল পরিশোধ এবং উত্থাপিত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করা প্রয়োজন।



