
দীর্ঘ শুষ্ক মৌসুমের পর স্বস্তির বৃষ্টি নামলেও সিলেট ও সুনামগঞ্জ অঞ্চলে নতুন করে আগাম বন্যার আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। আবহাওয়া গবেষকদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৩ মার্চের মধ্যে সিলেট বিভাগের জেলাগুলোতে প্রায় প্রতিদিনই মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। বিশেষ করে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় আগামী নয় দিনে ৫০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে, যা ২০১৭ সালের মার্চ মাসের প্রলয়ঙ্করী আগাম বন্যার স্মৃতি মনে করিয়ে দিচ্ছে।
শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এই বৃষ্টি থেমে থেমে শনিবার পেরিয়ে রবিবার রাতেও অব্যাহত রয়েছে। আবহাওয়ার এই বিরূপ পরিস্থিতিতে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কেনাকাটা করতে আসা মানুষজন চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বৃষ্টির কারণে নগরীর বিভিন্ন বিপণিবিতান ও শপিংমলের সামনে এবং সড়কে পানি জমে যাওয়ায় ক্রেতাদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে।
শনিবার সকাল ৯টার দিকে সিলেট নগরীতে টানা বৃষ্টিপাত শুরু হয়, যা দুপুর ১২টা পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। আবহাওয়া অধিদপ্তর সিলেটের তথ্যমতে, ওই তিন ঘণ্টায় সিলেটে ৭৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে ভোর ৬টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত আরও ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছিল। সব মিলিয়ে দিনের প্রথম ছয় ঘণ্টায় মোট ৮১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
বেসরকারি আবহাওয়া বিষয়ক ওয়েবসাইট আবহাওয়া ডট কম-এর প্রধান আবহাওয়াবিদ মোস্তফা কামাল পলাশ এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন। পূর্বাভাস অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদী এই প্রবল বর্ষণের ফলে ভারতের মেঘালয় রাজ্য থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বিস্তীর্ণ হাওর ও কৃষিভূমি প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, শুক্রবার থেকে পরবর্তী ১০ দিন সিলেট বিভাগ ও ভারতের মেঘালয়ে প্রবল বর্ষণ হতে পারে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসেও আগামী ১৭ মার্চ পর্যন্ত সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির কথা বলা হয়েছে। একই সময়ে ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মেঘালয় প্রদেশের সব জেলায় ১৩ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত অতিবৃষ্টি হতে পারে।
বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘গোধূলি’ নামের একটি বৃষ্টিবলয় উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আঘাত হেনেছে। এর প্রভাবে ১৭ মার্চ পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাতের ধারা অব্যাহত থাকবে। গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ জানিয়েছেন, আগামী ২৩ মার্চের মধ্যে সিলেট বিভাগের জেলাগুলোতে বিরতিহীন বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়ে একইভাবে বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছিল, যা দীর্ঘায়িত হয়ে মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে পাহাড়ি ঢল সৃষ্টি করে। সেই বছর বৈশাখের আগেই সিলেট ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর বোরো ধানের আবাদ তলিয়ে গিয়েছিল। বর্তমান আবহাওয়া পরিস্থিতি ২০১৭ সালের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ফসলহানির বড় ধরনের দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে।
মন্তব্য করুন
সম্পাদক ও প্রকাশক : জুবায়ের আহমদ
সম্পাদক কর্তৃক নিউ বর্নমালা অফসেড প্রেস, রাজা ম্যানশন,জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
রেজি নং : চ-৭০০, ডিক্লারেশন নং: সিল-১৪৩/১৪।