
সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট) আসনের নির্বাচনী লড়াইয়ে শুরুতেই নাটকীয় মোড় দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই আসনে শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে ছাড় দিয়েছে বিএনপি। তবে কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের কয়েক ঘণ্টার মাথায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় বিএনপির হেভিওয়েট নেতা মামুনুর রশীদ (চাকসু মামুন)। ফলে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে জোট বনাম স্বতন্ত্র প্রার্থীর এক ভিন্নধর্মী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
মঙ্গলবার দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সারা দেশে জমিয়তকে চারটি আসন ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দেন। এর মধ্যে সিলেট-৫ আসনে জমিয়তের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুককে জোটের প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়। জমিয়তের প্রার্থীরা তাদের দলীয় প্রতীক ‘খেজুর গাছ’ নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে জোটের বৃহত্তর স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কেউ যদি দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হন তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
তবে কেন্দ্রের এই বার্তার পরও জকিগঞ্জ ও কানাইঘাটের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যেতে শুরু করেছে। স্থানীয় বিএনপির একটি বড় অংশ দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে মাঠে থাকা মামুনুর রশীদকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী স্বপ্ন বুনছিল। গত ১৮ ডিসেম্বর তার পক্ষ থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হলে তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে বিপুল উৎসাহ দেখা দেয়। কিন্তু মঙ্গলবার জোটের চূড়ান্ত তালিকায় নিজের নাম না দেখে ক্ষুব্ধ ও হতাশ হয়ে পড়েন এই নেতার অনুসারীরা।
দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় মামুনুর রশীদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তিনি জানান যে এলাকার মানুষের আবেগ ও দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের সাথী হিসেবে তিনি নির্বাচনে লড়বেন। তার ভাষ্যমতে দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে তিনি মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে আছেন এবং জনগণের চাওয়ার প্রতি সম্মান জানিয়েই স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি সাধারণ ভোটারদের দোয়া ও সমর্থন চেয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন যে সিলেট-৫ আসনে জমিয়ত ও বিএনপির ভোট ব্যাংক বরাবরই শক্তিশালী। মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুকের ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা যেমন রয়েছে তেমনি মামুনুর রশীদের রয়েছে মজবুত সাংগঠনিক ভিত্তি। এখন দেখার বিষয় কেন্দ্রের সাংগঠনিক ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে ‘চাকসু মামুন’ শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে কতটা শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারেন। একদিকে জোটের শৃঙ্খলা রক্ষা আর অন্যদিকে স্থানীয় নেতৃত্বের জনপ্রিয়তা—এই দুইয়ের চাপে সিলেট-৫ আসনের নির্বাচনী মাঠ এখন রীতিমতো উত্তপ্ত।
মন্তব্য করুন
সম্পাদক ও প্রকাশক : জুবায়ের আহমদ
সম্পাদক কর্তৃক নিউ বর্নমালা অফসেড প্রেস, রাজা ম্যানশন,জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
রেজি নং : চ-৭০০, ডিক্লারেশন নং: সিল-১৪৩/১৪।