
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা মূল বেতন নির্ধারণ করে নতুন বেতন কাঠামো বা নবম পে স্কেল প্রস্তাব করেছে পুনর্গঠিত সুপারিশ প্রণয়ন কমিটি। দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এই নতুন স্কেল একবারে নয়, বরং ধাপে ধাপে পে স্কেল বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট থেকেই এই প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার যে পে-কমিশন গঠন করেছিল, তারা তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন ও সুপারিশ জমা দিয়েছে। এই সুপারিশের ভিত্তিতেই আসন্ন বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সর্বশেষ ২০১৫ সালে অষ্টম পে স্কেল দেওয়ার পর দীর্ঘ ১১ বছর পর নতুন এই কাঠামো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হলো।
নতুন প্রস্তাবিত কাঠামোতে বেতন বৈষম্য কমানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ১৯৭৩ সালে প্রথম বেতন কমিশনে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত যেখানে ১:১৫.৪ ছিল, প্রস্তাবিত নবম পে স্কেলে তা কমিয়ে ১:৮-এ নামিয়ে আনা হয়েছে। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, নতুন স্কেলে সর্বোচ্চ বেতন হবে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। বর্তমানে ২০তম গ্রেডের একজন কর্মচারী ভাতাসহ সব মিলিয়ে প্রায় ১৬ হাজার ৯৫০ টাকা পান। নতুন কাঠামো কার্যকর হলে তাঁর মাসিক আয় বেড়ে ৪১ হাজার ৯০৮ টাকায় পৌঁছাতে পারে।
বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সরকার চাচ্ছে আর্থিক চাপ সামলাতে এটি কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন করতে। প্রথম ধাপে কেবল মূল বেতন বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে পর্যায়ক্রমে চিকিৎসা, যাতায়াত, টিফিন ও ধোলাই ভাতাসহ অন্যান্য ভাতাগুলো সমন্বয় করা হবে। এছাড়া বর্তমানে প্রচলিত ১০ ও ১৫ শতাংশ বিশেষ ভাতা নতুন স্কেলের মূল বেতনের সঙ্গে একীভূত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
গত ২১ এপ্রিল সরকার জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিস ও সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিশন সংক্রান্ত সুপারিশ প্রণয়ন কমিটি পুনর্গঠন করে। এই কমিটি তাদের প্রতিবেদনে ১ম থেকে ১৯তম গ্রেড পর্যন্ত সকল স্তরেই ভাতা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে, তবে ভারসাম্য বজায় রাখতে উচ্চ গ্রেডের ভাতা বৃদ্ধির হার কিছুটা সীমিত রাখা হতে পারে। বিশেষ করে গাড়ি সুবিধা নগদায়ন করেন এমন কর্মকর্তাদের (৫ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব) ক্ষেত্রে ভাতার হিসাব আলাদা রাখা হয়েছে। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পরই এই সুপারিশগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে।
মন্তব্য করুন
সম্পাদক ও প্রকাশক : জুবায়ের আহমদ
সম্পাদক কর্তৃক নিউ বর্নমালা অফসেড প্রেস, রাজা ম্যানশন,জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
রেজি নং : চ-৭০০, ডিক্লারেশন নং: সিল-১৪৩/১৪।