জকিগঞ্জ প্রতিনিধি :
সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সকড়া জামে মসজিদ। প্রায় শত বছরের পুরনো এই পবিত্র স্থানটির সৌন্দর্য আর স্থায়িত্ব বাড়াতে শুরু হলো পুনঃনির্মাণ কাজ। দেশ-বিদেশের মুসলমানদের অর্থায়নে মসজিদটির নতুন করে গড়ে তোলার এই উদ্যোগে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।
‘মোস্তাক-সাব্বির যেখানে কাজ করবেন, সেখানেই প্রশ্ন উঠবে’ : বিএনপি সভাপতি শফিকুর রহমান১৭ অক্টোবর ২০২৬গত শুক্রবার (৩০ মে) জুমার নামাজের পর বিকেল ২টায় ছিল এই শুভ কাজের আনুষ্ঠানিক সূচনা। আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে সূচিত হয় মসজিদের নতুন যাত্রা। আয়োজনটি যেন পরিণত হয় একটি মিলনমেলায়। গ্রাম-প্রতিবেশ থেকে শুরু করে দূরদূরান্তের মানুষও এসে হাজির হন এই মহৎ উদ্যোগে শরিক হতে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি আকবর হোসেন। প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় ছিলেন জকিগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব লায়েক।
প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করে হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া বয়ান দেন জকিগঞ্জ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মোশাহীদ আহমদ কামালী। তিনি বলেন, “আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যে মসজিদ নির্মাণ করে, আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাতে একটি ঘর দান করেন।” এই হাদীসের আলোকে তিনি উপস্থিত সবাইকে উৎসাহ দেন মসজিদের পুনঃনির্মাণে এগিয়ে আসতে।
সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন কোষাধ্যক্ষ মাস্টার মঞ্জুর আলম। এরপর একে একে বক্তব্য রাখেন এলাকার বরেণ্য ব্যক্তিরা—আলহাজ্ব আছাব আলী, খলিলুর রহমান খলন, নাজিম ফারুক আহমদ, আলহাজ্ব কমর উদ্দিন, আনোয়ার হোসেন, আব্দুল খালিক, আব্দুল করিম, আব্দুস সালাম ছলন, আজির উদ্দিন ও গিয়াস উদ্দিন হীরা। তাঁরা সবাই ঐতিহাসিক এই মসজিদের পুনঃনির্মাণ কাজে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠান শেষে মিলাদ পরিচালনা করেন মাওলানা ফখরুল ইসলাম এবং বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা মোশাহীদ আহমদ কামালী। মোনাজাতে দেশ, জাতি, মসজিদের উন্নয়ন ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনা করা হয়। পরে উপস্থিত মুসল্লিদের মধ্যে শিরনি বিতরণ করা হয়।
গ্রামের এই শতবর্ষী মসজিদটি শুধু ইবাদতের স্থান নয়, এটি ইতিহাস, ঐতিহ্য আর আত্মার প্রশান্তির এক নির্ভরযোগ্য ঠিকানা। সেই জায়গাটির নতুনরূপে গড়ে উঠার সাক্ষী হতে পেরে সক্রার মানুষ আজ গর্বিত ও কৃতজ্ঞ।


