সিলেটের গর্বে দাগ: চাঁদাবাজির শিকার পর্যটকরা!


সিলেটের নাম শুনলেই যে জিনিসটি সবার আগে মনে আসে, তা হলো চা বাগানের অপরূপ সৌন্দর্য। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রকৃতিপ্রেমীরা ছুটে আসেন এই মোহনীয় দৃশ্য উপভোগ করতে। বিশেষ করে ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের ভিড় বেড়ে যায় বহুগুণ। তবে, এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একদল অসাধু ব্যক্তি পর্যটকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিনব ফাঁদ পেতে রেখেছে।

চা বাগানের প্রবেশপথে দাঁড়িয়ে থাকা একদল চাঁদাবাজ চক্র পর্যটকদের কাছ থেকে টাকা আদায় করছে জোরপূর্বক। কেউ টাকা দিতে রাজি না হলে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে, আবার কাউকে ভিতরে প্রবেশের জন্য নানান প্রলোভন দেখিয়ে কৌশলে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে অর্থ। চাঁদা না দিলে বাগানে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না, আর যদি কেউ প্রতিবাদ করেন, তবে তাকে নানাভাবে হেনস্তা করা হয়। এমনকি সুন্দর জায়গায় ছবি তোলার সুযোগ কিংবা গাইড দেওয়ার নামে পর্যটকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হচ্ছে।

সিলেটের সচেতন মহলের ভাষ্যমতে, এই ধরনের চাঁদাবাজি সিলেটের পর্যটন শিল্পের জন্য বড় লজ্জার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত পর্যটকরা সিলেট সম্পর্কে একটি নেতিবাচক ধারণা নিয়ে ফিরবেন, যা এই অঞ্চলের পর্যটন খাতের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপের অভাব স্পষ্ট। অনেকেই মনে করেন, সংশ্লিষ্টদের নজরদারির শিথিলতাই এমন পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে। মাঝেমধ্যে শোনা যায়, বিভিন্ন অদৃশ্য সমীকরণ প্রশাসনের তৎপরতাকে ব্যাহত করছে, ফলে চাঁদাবাজ চক্রের সাহস ক্রমশ বাড়ছে।

যারা এই চাঁদাবাজিতে জড়িত, তাদের সঙ্গে কথা বললে তারা দাবি করে, "বাগানে প্রবেশ করতে হলে ২০০ টাকা দিতে হবে। চা-পানির খরচ আছে, আমরা দেখাশোনা করি।" অথচ, প্রকৃত সত্য হলো, এসব টাকা বেআইনিভাবে আদায় করা হচ্ছে, যা পর্যটকদের জন্য হয়রানির শামিল।

সিলেটের পর্যটন শিল্পের সুনাম রক্ষার জন্য যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। অনিয়ম ও চাঁদাবাজির অবসান ঘটিয়ে সুষ্ঠু পর্যটন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি।

নবীনতর পূর্বতন