উবেদুল্লাহ তালুকদার : ২১ নভেম্বর, জকিগঞ্জ মুক্ত দিবস, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের এক গৌরবময় দিন। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরেও, দেশের প্রথম মুক্তাঞ্চল হিসেবে জকিগঞ্জের স্বীকৃতি আজও অধরাই রয়ে গেছে। যদিও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ জনগণের দীর্ঘদিনের দাবির পরও এই স্বীকৃতি মেলেনি, কিন্তু তাদের আশা এবং প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।
১৯৭১ সালের ২০ নভেম্বর, ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সহযোগিতায় মুক্তিযোদ্ধারা পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে এক সাহসী অভিযান শুরু করেন। যুদ্ধের প্রথম দিন থেকেই মুক্তিযোদ্ধারা ৩টি দলের সমন্বয়ে জকিগঞ্জে এক ঝাঁঝালো আক্রমণ শুরু করেন, যার ফলস্বরূপ ২১ নভেম্বর সকালে জকিগঞ্জ মুক্ত হয়ে ওঠে। সেই সময় থেকে ২১ নভেম্বরকে ‘জকিগঞ্জ মুক্ত দিবস’ হিসেবে স্থানীয়ভাবে উদযাপন করা হচ্ছে।
এতবছর পরেও, জকিগঞ্জকে দেশের প্রথম মুক্তাঞ্চল হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি না দেওয়ার কারণে স্থানীয় জনগণের মধ্যে হতাশা এবং আক্ষেপ রয়েছে। যদিও ২০১২ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্যোগে 'জকিগঞ্জ প্রথম মুক্তাঞ্চল বাস্তবায়ন পরিষদ' গঠন করা হয়েছিল, তবে এখনো এই দাবি বাস্তবায়িত হয়নি।
স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের মতে, এই অঞ্চলের মুক্তাঞ্চল হিসেবে স্বীকৃতি প্রাপ্তি শুধু ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে নয়, বরং এটি একটি এলাকাকে সম্মানিত করবে এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শন হিসেবে চিহ্নিত হবে। দীর্ঘদিন ধরে মুক্তিযোদ্ধাদের এবং সাধারণ জনগণের দাবি, অন্তত জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের জীবনকালেই তাদের এই চিরকালীন প্রচেষ্টার স্বীকৃতি প্রদান করা হোক।
১৯৭১ সালের ২০ নভেম্বর, গভীর রাতে মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় মিত্রবাহিনী এক সাঁড়াশি আক্রমণ পরিচালনা করে। এই অভিযান থেকে শুরু হয় ২১ নভেম্বরের বিজয়, যা দেশের প্রথম মুক্তাঞ্চল হিসেবে সিলেটের সীমান্তবর্তী অঞ্চলের জনগণকে মুক্ত বাতাসের স্বাদ এনে দেয়। পরদিন ২২ নভেম্বর, জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে সিলেটের সাংসদ ও মুক্তিযোদ্ধারা আনুষ্ঠানিকভাবে জকিগঞ্জকে স্বাধীন ঘোষণা করেন।
স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরেও, দেশের এই প্রথম মুক্তাঞ্চলের গুরুত্বকে সম্মানিত করা হয়নি। একারণেই, দেশের নাগরিকদের মধ্যে এক গভীর চাওয়া—এটা শুধুমাত্র মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো নয়, বরং সেই সময়কার বীরত্বের ইতিহাসকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে স্মরণীয় করে রাখা।