জুবায়ের আহমদ :
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে আনজুমানে আল-ইসলাহ'র কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলীর সাক্ষাতের পরই অষ্টম ও নবম শ্রেণিতে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষক প্রশিক্ষণ স্থগিত করা হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনায় এ প্রশিক্ষণ স্থগিত করা হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা ও বেশ কয়েকজন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আগামী শনিবার (৯ ডিসেম্বর) থেকে প্রথম পর্যায়ে এ প্রশিক্ষণ শুরু হওয়ার কথা ছিলো।
একজন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে কোনো আদেশ জারি করা না হলেও টেলিফোনে যোগাযোগ করে জানানো হয়েছে প্রশিক্ষণ স্থগিত রাখার বিষয়ে। আমরাও প্রধান শিক্ষকদের বিষয়টি জানাচ্ছি।
অপর একজন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, বুধবার দুপুরে একটি সভা ছিলো। ওই সভায় বলা হয়েছে প্রশিক্ষণটি আপাতত স্থগিত রাখতে। পরে প্রশিক্ষণের নতুন সময় জানানো হয়েছে।
এদিকে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফকির জাকির হোসেন প্রশিক্ষণ স্থগিত ঘোষণা করে আদেশ জারি করেছেন। এতে তিনি জানিয়েছেন, ৯ ডিসেম্বরের প্রশিক্ষণ স্থগিত করা হয়েছে। পরে প্রশিক্ষণের তারিখ জানানো হবে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ বলেন, আমাদের অ্যাডজাস্টমেন্টের কিছুটা সমস্যা ছিলো। সেগুলো সমাধানের চেষ্টা চলছে।
জানা গেছে, আগামী বছর অষ্টম ও নবম শ্রেণিতে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেণি শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আগামী শনিবার (৯ ডিসেম্বর) থেকে শুরু হয়ে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলার কথা ছিলো। প্রথম পর্যায়ে ইআইআইএন-ধারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক প্রশিক্ষণ শুরু হয়ে বলে জানা গিয়েছিলো। আর জানুয়ারি মাসে সুবিধাজনক সময়ে দ্বিতীয় পর্যায়ে ইআইআইএন-বিহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়েছিলো।
এর আগে ১ ডিসেম্বর থেকে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেণি শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা পেছেনো হয়।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সাথে মাও. হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলীর অনুষ্ঠিত একান্ত বৈঠকে তিনি দশ দফা দাবি পেশ করেছেন। এগুলো হলো মাদরাসার জন্য আলিম-উলামার সমন্বয়ে স্বতন্ত্র কারিকুলাম প্রণয়ন করা। মাদরাসার মূল বিষয়সমূহ ঠিক রেখে সাধারণ বিষয়সমূহের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে দাখিল স্তরে ১০টি বিষয় নির্ধারণ করা। স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদরাসাসমূহের মঞ্জুরী ও নবায়ন এবং ৪৩১২টি স্বতন্ত্র এবতেদায়ি মাদরাসা এমপিওভুক্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা। দেশের ৩৫০টি সরকারী কলেজ ও ৩টি সরকারি মাদরাসার মসজিদসমূহের ইমাম ও মুয়াযযিনদের জন্য জনবল কাঠামোতে পদ সৃষ্টি করে তাদের জন্য সরকারি বেতন-ভাতাদির ব্যবস্থা করা। স্কুল ও মাদরাসার সকল পাঠ্যপুস্তক থেকে কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী বিতর্কিত ও আপত্তিকর সকল বিষয় বাদ দেওয়া। নতুন কারিকুলাম ও পাঠ্যপুস্তক ৮ম ও ৯ম শ্রেণিতে চালু করার আগে আলিম-উলামার সমন্বয়ে যাচাইপূর্বক সংশোধন করা। মাদরাসার জন্য স্বতন্ত্র কারিকুলাম প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত নতুন কারিকুলামে মাদরাসার ইসলামী বিষয়সমূহ যথাযথ গুরুত্বের সাথে অন্তর্ভুক্ত করা। স্কুলের ধর্ম শিক্ষা বিষয়কে বোর্ড পরীক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করা। সংযুক্ত ও স্বতন্ত্র সকল স্তরের ইবতেদায়ী মাদরাসার শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি, মিড-ডে মিল, শিক্ষা উপকরণ প্রদান এবং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাগ্রহণ করা। মাদরাসার সাধারণ ও ইসলামী বইসমূহ আলিম-উলামার সমন্বয়ে মাদরাসার উপযোগী করে ছাপানো।
মাওলনা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে অত্যন্ত ফলপ্রসু বৈঠক হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দাবীগুলো মন দিয়ে শুনেছেন। আশাকরি দেশ, জাতি ও ইসলামের সুমহান স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী দাবীগুলো বাস্তবায়ন করবেন।