সবুজ প্রান্ত ডেস্ক, ::
আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন সিলেট-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আনজুমানে আল ইসলাহ’র সভাপতি মাওলানা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী। মঙ্গলবার রাত পৌনে আটটায় গণভবনে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাড়ে ৮টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন। প্রধানমন্ত্রী তাকে ডেকে নিয়েছেন।
এই সাক্ষাতের খবরে সিলেটজুড়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। মনোনয়ন দাখিলের আগে এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে পারেন মাওলানা হুছামুদ্দীন চৌধুরী এমন জোর আলোচনা ছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ এই আসনে মনোনয়ন দেয় সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুকউদ্দিন আহমদকে। মাওলানা হুছামুদ্দীন চৌধুরী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। সিলেটজুড়ে তার বাবা আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (রহ)-এর তৈরি সংগঠন আনজুমানে আল ইসলাহ’র অসংখ্য কর্মী ভক্ত ও মুরিদ রয়েছেন। এই আসনের জকিগঞ্জে তার বাড়ি হওয়ায় তার জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এত সব সমীকরণের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে ডেকে পাঠানোর পর নতুন করে আলোচনায় মাওলানা হুছামুদ্দনী চৌধুরী।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে হুছামুদ্দীন চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গত বছর ১২ জানুয়ারি নতুন কারিকুলাম ও পাঠ্যপুস্তক থেকে ইসলামি বিশ্বাস বিরোধী বিষয়সমূহ বাদ দিয়ে তা সংশোধন, মাদ্রাসার জন্য স্বতন্ত্র কারিকুলাম প্রণয়নসহ ১০ দফা দাবি তুলে ধরেছিলাম। এবারও সেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী সিলেট-৫ থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় আমাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে সিলেট বিভাগের অন্যান্য আসনে আওয়ামী লীগকে সহযোগিতার আহবান জানিয়েছেন।
সিলেট-৫ আসন নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাকে আশ্বস্ত করেছেন নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হবে। এছাড়া আমাকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছেন। দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। সবকিছু এ মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়।’
একটি সূত্রের দাবি, বেশ কয়েকটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এই আসনে এগিয়ে রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মাওলানা হুছামুদ্দীন চৌধুরী। অন্যদিকে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. আহমদ আল কবির মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ায় নৌকার প্রার্থী ঝুঁকিতে রয়েছেন। শেষ পর্যন্ত দলের হাইকমান্ডের নির্দেশে ড. আহমদ আল কবির প্রত্যাহার করে নিতে পারেন। সে সিদ্ধান্তও হয়তো মাওলানা হুছামুদ্দীনের পথ আরও সহজ করার জন্য হতে পারে।
তাছাড়া বৈঠকে তিনি দশ দফা দাবি পেশ করেছেন। এগুলো হলো মাদরাসার জন্য আলিম-উলামার সমন্বয়ে স্বতন্ত্র কারিকুলাম প্রণয়ন করা। মাদরাসার মূল বিষয়সমূহ ঠিক রেখে সাধারণ বিষয়সমূহের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে দাখিল স্তরে ১০টি বিষয় নির্ধারণ করা। স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদরাসাসমূহের মঞ্জুরী ও নবায়ন এবং ৪৩১২টি স্বতন্ত্র এবতেদায়ি মাদরাসা এমপিওভুক্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা। দেশের ৩৫০টি সরকারী কলেজ ও ৩টি সরকারি মাদরাসার মসজিদসমূহের ইমাম ও মুয়াযযিনদের জন্য জনবল কাঠামোতে পদ সৃষ্টি করে তাদের জন্য সরকারি বেতন-ভাতাদির ব্যবস্থা করা। স্কুল ও মাদরাসার সকল পাঠ্যপুস্তক থেকে কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী বিতর্কিত ও আপত্তিকর সকল বিষয় বাদ দেওয়া। নতুন কারিকুলাম ও পাঠ্যপুস্তক ৮ম ও ৯ম শ্রেণিতে চালু করার আগে আলিম-উলামার সমন্বয়ে যাচাইপূর্বক সংশোধন করা। মাদরাসার জন্য স্বতন্ত্র কারিকুলাম প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত নতুন কারিকুলামে মাদরাসার ইসলামী বিষয়সমূহ যথাযথ গুরুত্বের সাথে অন্তর্ভুক্ত করা। স্কুলের ধর্ম শিক্ষা বিষয়কে বোর্ড পরীক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করা। সংযুক্ত ও স্বতন্ত্র সকল স্তরের ইবতেদায়ী মাদরাসার শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি, মিড-ডে মিল, শিক্ষা উপকরণ প্রদান এবং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাগ্রহণ করা। মাদরাসার সাধারণ ও ইসলামী বইসমূহ আলিম-উলামার সমন্বয়ে মাদরাসার উপযোগী করে ছাপানো।