মূল কনটেন্টে যান
বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬
বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬

রাতাছড়া খাসিয়া পুঞ্জি – নিভে যাওয়া এক জনপদের গল্প!


সবুজ প্রান্ত অনলাইন
সবুজ প্রান্ত অনলাইন
রাতাছড়া খাসিয়া পুঞ্জি – নিভে যাওয়া এক জনপদের গল্প!
ছবি : সবুজ প্রান্ত

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী রাতাছড়া খাসিয়া পুঞ্জি এখন বিলুপ্তির পথে। একসময় এই পুঞ্জিতে ৪০ থেকে ৪৫টি পরিবারের বসবাস থাকলেও নানা সংকটে তা এখন ১৫/১৬ টিতে নেমে এসেছে।

‎সরেজমিনে দেখা যায়, পুঞ্জির বেশিরভাগ ঘর তালাবদ্ধ। অনেক ঘরের উঠোনে আগাছা জন্মেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অবশিষ্ট পরিবারগুলোও পুঞ্জি ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। চলে যাওয়া পরিবারগুলোর বেশিরভাগই মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার বিভিন্ন খাসিয়া পুঞ্জিতে আশ্রয় নিয়েছে।

‎পুঞ্জির বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তিনটি প্রধান কারণে তারা পৈতৃক ভিটা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন।

‎প্রথমত, আর্থিক অস্বচ্ছলতা। তাদের প্রধান জীবিকা পান চাষ। কিন্তু ন্যায্য বাজার মূল্য না পাওয়া এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

‎দ্বিতীয়ত, দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা। পুঞ্জিতে যাতায়াতের জন্য কোনো পাকা সড়ক নেই। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ফলে অসুস্থ রোগী ও শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

‎তৃতীয়ত, সীমান্তে নিরাপত্তাহীনতা। সীমান্তবর্তী হওয়ায় এলাকায় অবাধে চোরাচালান বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে শান্তিপ্রিয় খাসিয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে।

‎এ বিষয়ে পুঞ্জির এক বাসিন্দা বলেন, “আমরা এখানে আর থাকতে পারছি না। পানের দাম পাই না, রাস্তা নেই, ছেলে-মেয়েদের স্কুলে যেতেও কষ্ট। তাই সবাই একে একে চলে যাচ্ছে।”

‎এলাকাবাসীর দাবি, রাতাছড়া খাসিয়া পুঞ্জিকে টিকিয়ে রাখতে দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পান চাষিদের জন্য সরকারি প্রণোদনা এবং সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করা প্রয়োজন। অন্যথায় অচিরেই মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে শত বছরের পুরনো এই জনপদ।