মূল কনটেন্টে যান
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬

অগ্নিদুর্যোগে ভেঙে পড়া পরিবারগুলোর পাশে লতিফি হ্যান্ডস


সবুজ প্রান্ত অনলাইন
সবুজ প্রান্ত অনলাইন
AddText 01 25 07.27.57 2 scaled
AddText 01 25 07.27.57 2 scaled

হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্থাগঞ্জ উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এক মুহূর্তে বদলে যায় ১০টি দিনমজুর পরিবারের জীবন। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে সৃষ্ট আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় তাদের বসতঘর, আসবাবপত্র ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী। আগুন নেভার পর যে শূন্যতা রয়ে যায়, তা ছিল শুধুই পোড়া ছাই আর অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ।

এই অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো হলো জসিম উদ্দিন, ছালেহা খাতুন, রেনু মিয়া, আয়েশা বেগম, সজিব মিয়া, পলাশ আহমদ, ময়না মিয়া, লিলু মিয়া, শফিক মিয়া ও বিলাল মিয়া। মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু হারিয়ে তারা কেউ আত্মীয়ের ঘরে, কেউ প্রতিবেশীর বারান্দায় আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হন। শিশুদের পড়াশোনা, নারীদের নিরাপত্তা ও নিত্যদিনের খাবারের চিন্তা সব মিলিয়ে পরিবারগুলো পড়ে যায় চরম সংকটে।

এমন দুঃসময়ে আর্ত মানবতার ডাকে সাড়া দিয়ে পাশে দাঁড়ায় মানবিক সংগঠন ‘লতিফি হ্যান্ডস’। যুগের হাতেমতাঈ খ্যাত মানবতার প্রতীক হযরত আল্লামা ইমাদ উদ্দিন চৌধুরী বড়ছাহেব কিবলাহ ফুলতলীর দিকনির্দেশনায় পরিচালিত এই সংগঠনটি দ্রুত বাস্তব উদ্যোগ গ্রহণ করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য।

লতিফি হ্যান্ডসের ব্যবস্থাপনায় ১০টি পরিবারের জন্য নতুন করে ঘর নির্মাণ করা হয়। পাশাপাশি দেওয়া হয় চৌকি, লেপ-তোষকসহ প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র এবং নগদ অর্থ, যাতে তারা নতুন করে জীবন শুরু করার শক্তি পান।

২৫ জানুয়ারি রবিবার আল্লামা ইমাদ উদ্দিন চৌধুরী বড় ছাহেব ফুলতলীর পুত্র মাওলানা ফারহান আহমদ চৌধুরী রেদা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর হাতে এসব সহায়তা তুলে দেন। এ সময় তিনি বলেন, দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব। লতিফি হ্যান্ডস সেই দায়িত্ববোধ থেকেই মানবতার সেবায় কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে।

নতুন ঘর পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সদস্যদের চোখেমুখে ছিল স্বস্তি আর কৃতজ্ঞতার ছাপ। আগুনে সব হারালেও মানবিক এই সহায়তায় তারা আবার মাথা তুলে দাঁড়ানোর সাহস পেয়েছেন বলে জানান তারা। মানবিক এই উদ্যোগের জন্য লতিফি হ্যান্ডস ও সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।

দুর্যোগের অন্ধকারে এমন মানবিক উদ্যোগ আবারও প্রমাণ করে, সহমর্মিতাই পারে ভেঙে পড়া মানুষকে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখাতে।